
রবিবার থেকে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে শুরু হয়েছে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা। পদ্ম শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা পরিবর্তন যাত্রার জন্য রাজ্যে আসছেন। সোমবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে সভা করতে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেছেন, ‘ইসলামপুর হবে ঈশ্বরপুর।' প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি সরকার নানা ঐতিহাসিক শহরের নাম পরিবর্তন করেছে। নিতিন নবীনের এই দাবির পর এবার সেই একই মডেল বাংলায় প্রয়োগ করার যেন ইঙ্গিত দিল গেরুয়া শিবির।
প্রসঙ্গত, যোগীর রাজ্যে গ্রাম শহরের নাম বদল নতুন কিছু নয়। এর আগে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ করা হয়েছে। লখনউয়ের নাম পরিবর্তনেরও দাবি উঠেছে। । ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যা। মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শহর আওরঙ্গবাদের নাম পরিবর্তন করে শম্ভুজিনগর করার ঘোষণা করেছে বিজেপি। ওই সব ক্ষেত্রে বিজেপি সরকারগুলির দাবি মুসলিম শাসকেরা সেখানকার সনাতনী নাম বদলে দিয়েছিলেন। তাই পুরনো নাম ফেরানো হচ্ছে। সেই নীতি মেনে রাজস্থানের তিন শহরের মুঘলদের নামও পরিবর্তন করেছে বিজেপি সরকার। বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র মাউন্ট আবু সহ তিন স্থানের নাম বদল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই আবহেই, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের নাম বদলে ‘ঈশ্বরপুর’ করার ডাক দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সোমবার উত্তর দিনাজপুরে দলীয় একটি প্রচার সভায় দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনী আবহে তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সোমবার সভা চলাকালীন জনতার উদ্দেশে নীতিন নবীন প্রশ্ন ছুড়ে দেন, 'এই জায়গাটার নাম ইসলামপুর। আপনারা কি চান না এর নাম ঈশ্বরপুর হোক?' উত্তর দিনাজপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদটির নাম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, 'রাজ্যে সরকার বদলালেই ইসলামপুর বদলে ঈশ্বরপুর হয়ে যাবে।' মূলত হিন্দুত্বের আবেগ উসকে দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতেই বিজেপির এই কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নীতিন নবীনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। নাম পরিবর্তনের রাজনীতিকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। bangla.aajtak.in-কে জয়প্রকাশ মজুমদারের বলেন, ' বিজেপি অশিক্ষিতের দল। বিজেপি হিন্দু-মুসলিম করার জন্য নাম পরিবর্তনের জিগির তুলছে। নাম পরিবর্তনের পেছনে ইতিহাস থেকে, বোম্বে থেকে মম্বই এবং ক্যালকাটা থেকে কলকাতার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে। বিজেপি নাম বদলে দিলেই তো আর ইতিহাস বদলে দিতে পারবে না। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁই থাকবেন। বিজেপি ইতিহাস জানে না।’ তৃণমূলের দাবি, উন্নয়ন বা জনহিতকর কাজের বদলে নাম পরিবর্তনের মতো ইস্যু সামনে এনে বিভাজনের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি। এতেই তাদের সংকীর্ণ মানসিকতাই প্রকাশ পাচ্ছে।