
ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াইকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচারের মূল সুর ঠিক করে ফেলেছে। এবারও কেন্দ্রবিন্দুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরেই ভোটের কৌশল সাজাচ্ছে দল। স্লোগানও স্পষ্ট-'উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে।'
এর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে তৃণমূল। ‘ঘরের লোক বনাম বহিরাগত’ এই বিভাজনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই এলাকায় পোস্টারও দেখা গিয়েছে, যেখানে সরাসরি দলীয় প্রতীক বা নাম ব্যবহার না করেই এই বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় কাউন্সিলর ও দলীয় নেতৃত্বের এক বৈঠকে এই প্রচার কৌশল চূড়ান্ত করা হয়। বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়ে ইতিমধ্যেই হ্যান্ডবিল ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছানো।
দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ইদের পর থেকেই মূল প্রচার আরও জোরদার হবে। যদিও প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এক দলীয় নেতার কথায়, 'দিদি এই এলাকারই মানুষ, ভবানীপুর তাঁর নিজের জায়গা, এই বার্তাই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।'
ভবানীপুর কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড-৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২-নিয়ে গঠিত, এবং সব ক’টিতেই তৃণমূলের কাউন্সিলর রয়েছেন। সেই সংগঠনিক শক্তিকেই কাজে লাগিয়ে তৃণমূল ভোটের ময়দানে নামছে।
অন্যদিকে বিজেপিও প্রচারে পিছিয়ে নেই। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের সংগঠিত হতে এবং দৃঢ়ভাবে লড়াই চালানোর বার্তা দিয়েছেন। কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর প্রচার শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। তবে সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ব্যবধান কিছুটা কমেছে, যা তৃণমূলের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ নেতা ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সীর মধ্যে প্রচারের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে, ‘ঘরের মেয়ে’ তত্ত্বকেই সামনে রেখে এবার ভবানীপুরে জয় ধরে রাখাই তৃণমূলের লক্ষ্য।