Advertisement

সংবিধান অলঙ্করণের শিল্পী নন্দলালের নাতির নামও বাদ, SIR নিয়ে ক্ষুব্ধ ৮৮-র বৃদ্ধ

ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম নন্দলাল বসুর পরিবারকে ঘিরে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং স্ত্রী দীপা সেনের নাম হঠাৎই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 04 Apr 2026,
  • अपडेटेड 12:22 PM IST
  • ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম নন্দলাল বসুর পরিবারকে ঘিরে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
  • তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং স্ত্রী দীপা সেনের নাম হঠাৎই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম নন্দলাল বসুর পরিবারকে ঘিরে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং স্ত্রী দীপা সেনের নাম হঠাৎই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে।

৮৮ বছরের সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং ৮২ বছরের দীপা সেন বর্তমানে শান্তিনিকেতনে বসবাস করেন। তাঁদের দাবি, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া এবং শুনানিতে হাজির থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে তাঁদের নাম ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এ রাখা হয়েছিল, পরে নির্দেশ অনুযায়ী পাসপোর্ট, পেনশন সংক্রান্ত কাগজ, চাকরির নথি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র জমা দেন তাঁরা।

সুপ্রবুদ্ধ সেন জানান, নির্বাচন আধিকারিকদের সামনে তিনি সমস্ত তথ্য তুলে ধরেছিলেন। এমনকি অফিসাররা তাঁর বাড়িতেও গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। তবুও শেষ তালিকায় তাঁদের নাম না থাকা নিয়ে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, 'আমি এখন আর ভোট দেব না। জীবনে বহুবার ভোট দিয়েছি, তাই এ নিয়ে আর অনুশোচনা নেই।'

তিনি আরও জানান, গত ৫২ বছর ধরে তাঁর সঙ্গে থাকা চক্রধর নায়েকের নামও ভোটার তালিকায় নেই।

উল্লেখ্য, সুপ্রবুদ্ধ সেন হলেন নন্দলাল বসুর কনিষ্ঠ কন্যা যমুনা সেনের পুত্র। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠভবন থেকে পড়াশোনা করেন। এবং পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। তিনি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ১৯৯৬ সালে অবসর নেন। এবং শান্তিনিকেতনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

এই ঘটনা রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ লক্ষ নাম যাচাই করে ৬টি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বাদ পড়েছে।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বাদের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শ্রীনিকেতনের বিডিও অর্পিতা চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরা চাইলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

Advertisement

উল্লেখ্য, নন্দলাল বসু ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিষ্য এবং তাঁর নেতৃত্বে শিল্পীদের একটি দল ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপি অলঙ্করণ করেন। যা জওহরলাল নেহরুর উদ্যোগে হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement