
নির্বাচনের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিতর্কিত পোস্ট এবং নির্বাচন কমিশনের ‘বার্নল-বোরোলিন’ সংক্রান্ত সার্কুলার ঘিরে মঙ্গলবার তুমুল রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এই ইস্যুতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'হিম্মত থাকলে সরাসরি মানুষের সঙ্গে লড়াই করুন।'
দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তেমনই সমাজবিরোধীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, 'কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুন্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন, না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে পুড়ে যাবেন।' কমিশনও জানিয়ে দেয়, ভোটে বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গ টেনেই পিংলা ও তমলুকের সভা থেকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, 'বার্নল নয়, আমরা আইসক্রিম দেব।' বিদ্রুপের সুরে তিনি বলেন, 'এত ভয় দেখানোর কী আছে? যারা বলছে বার্নল দিয়ে পুড়িয়ে দেব, তাদের বলুন, তোমাদের জন্য বার্নল নয়, আইসক্রিমই যথেষ্ট।'
কেন আইসক্রিম, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'এখন প্রচণ্ড গরম, আইসক্রিম খান, শরীর ঠান্ডা রাখুন। আমাদের সঙ্গে ওদের এটাই পার্থক্য, আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না।'
এদিনের সভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ১৫ তারিখে ডিলিমিটেশন বিল আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বাংলাকে বিভক্ত করা। একই সঙ্গে এনআরসি কার্যকর করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেন।
ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি গুরুতর অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে গণনার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানো বা ইভিএম মেশিনে গণ্ডগোল করার চক্রান্ত হতে পারে। তিনি এই ধরনের কাজকে গণতন্ত্রবিরোধী বলে আখ্যা দেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও আক্রমণ করে তিনি বলেন, 'এখানে এসে ভাষণ দিচ্ছেন, আর নিজের রাজ্যে নয়ডা জ্বলছে।'
পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিজেপিকে সমর্থন না করলে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রায়গঞ্জে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট বিজেপির পক্ষে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, গরমের মধ্যে মানুষ লাইনে দাঁড়ালে তাকে ‘বুথ জ্যাম’ বলা যায় না, বরং সেটাই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের স্বাভাবিক চিত্র। সবশেষে বিরোধীদের একযোগে আক্রমণ করে তাঁর কটাক্ষ, 'এখন বিজেপির কোলে সিপিএম দোল খাচ্ছে।'