Advertisement

PM Modi on Fish: BJP ক্ষমতায় এলে মাছ বন্ধ, মমতার দাবিতে পাল্টা মোদী কী বললেন?

'বাংলায় মাছের এত চাহিদা, কিন্তু এ রাজ্য মৎস্য উৎপাদনে এখনও আত্মনির্ভর নয়।' হলদিয়ার জনসভা থেকে মাছ-ইস্যুতেই TMC-কে পাল্টা বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

হলদিয়ার জনসভা থেকে মাছ-ইস্যুতেই TMC-কে পাল্টা বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।হলদিয়ার জনসভা থেকে মাছ-ইস্যুতেই TMC-কে পাল্টা বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
Aajtak Bangla
  • হলদিয়া,
  • 09 Apr 2026,
  • अपडेटेड 1:00 PM IST

'বাংলায় মাছের এত চাহিদা, কিন্তু এ রাজ্য মৎস্য উৎপাদনে এখনও আত্মনির্ভর নয়।' হলদিয়ার জনসভা থেকে মাছ-ইস্যুতেই TMC-কে পাল্টা বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সম্প্রতি পুরুলিয়ার জনসভাতেও মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এহেন প্রেক্ষাপটে মাছ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৫ বছরের শাসনেও তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের মাছ খাওয়াতে পারেনি। বাইরে থেকে মাছ আনতে হচ্ছে। এটা তৃণমূলের দুর্নীতির উদাহরণ।' তাঁর দাবি, গত ১১ বছরে গোটা দেশে মাছ উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও বাংলায় সেই সাফল্য আসেনি। বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ উৎপাদন দ্রুত বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বেশ কিছুটা জুড়েই ছিল মাছ-ইস্যু। দেন বিহার ও অসমের উদাহরণও। তাঁর কথায়, একসময় এই রাজ্যগুলিও বাইরে থেকে মাছ আনত। এখন তারা উল্টে মাছ রফতানি করছে। 'কিন্তু বাংলা পিছিয়ে রয়েছে, আর তার জন্য দায়ী তৃণমূল সরকারের পাপ', কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি।

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতেই বারবার বিজেপিকে বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি পুরুলিয়ার জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মমতার অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের প্রবণতা রয়েছে। বাংলায় ক্ষমতায় এলে একই পথে হাঁটতে পারে তারা। এই মন্তব্যকে তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর আক্রমণ হিসেবেই তুলে ধরেন। 

একইভাবে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের অ্যানিমেশন ভিডিওতেও দেখানো হয়েছে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত মাছের ব্যবসা তুলে দেওয়া হবে। ফলে এদিন যে সেই দাবিরই পাল্টা জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী, তা বলাই বাহুল্য।

বিজেপি নেতারা এর আগেই পাল্টা প্রচারে নেমেছেন
তৃণমূলের এই প্রচারের মোকাবিলায় বিজেপিও পাল্টা প্রতীকী রাজনীতির পথে হাঁটছে। বিধাননগরের প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাতে ৫ কেজির কাতলা মাছ নিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন।  

Advertisement

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন, মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করার কোনও প্রশ্নই নেই।  

কেন মাছ এত বড় ইস্যু?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় মাছ শুধু খাবার নয়, সংস্কৃতির অংশ। জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মাছ খাওয়া হয় এই রাজ্যে। ফলে এই ইস্যুতে বাঙালির আবেগও তুঙ্গে।

লক্ষ্যণীয়, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক লড়াই দুই স্তরে চলছে। একদিকে মোদী তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রশ্ন তুলেছেন। কেন বাংলা মাছ উৎপাদনে পিছিয়ে?

অন্যদিকে তৃণমূল সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তুলে ধরছে তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্লাসিক 'ন্যারেটিভ বনাম কাউন্টার-ন্যারেটিভ' লড়াই। বিজেপি উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রসঙ্গ তুলছে। আর তৃণমূল আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্নকে ইস্যু করছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই 'মাছ বিতর্ক' যে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা বলাই যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা এতে কতটা গুরুত্ব দেবেন, সেটাই দেখার। 

Read more!
Advertisement
Advertisement