
বিধাননগর একটি সম্পূর্ণ শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র। যার কেন্দ্রবিন্দু সল্টলেক সিটি। এটি একটি পরিকল্পিত টাউনশিপ, যেখানে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য স্পষ্ট হলেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিধাননগর, যা সল্টলেক সিটি নামেও পরিচিত, কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার সদর দফতর। মূল কলকাতার উপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পরিকল্পনায় এই শহরের জন্ম। এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচিত পরিকল্পিত নগরাঞ্চল।
বিধাননগর একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। যা ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে তৈরি হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বিধাননগর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ২৮ থেকে ৪১ নম্বর পর্য...
বিধাননগর একটি সম্পূর্ণ শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র। যার কেন্দ্রবিন্দু সল্টলেক সিটি। এটি একটি পরিকল্পিত টাউনশিপ, যেখানে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য স্পষ্ট হলেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিধাননগর, যা সল্টলেক সিটি নামেও পরিচিত, কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার সদর দফতর। মূল কলকাতার উপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পরিকল্পনায় এই শহরের জন্ম। এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচিত পরিকল্পিত নগরাঞ্চল।
বিধাননগর একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। যা ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে তৈরি হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বিধাননগর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ২৮ থেকে ৪১ নম্বর পর্যন্ত মোট ১৪টি ওয়ার্ড। এছাড়াও রয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৯, ২০ ও ২৮ থেকে ৩৫ নম্বর পর্যন্ত ১০টি ওয়ার্ড। ফলে এটি একটি পুরোপুরি শহুরে কেন্দ্র, যেখানে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। এই কেন্দ্রটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
বিধাননগর কেন্দ্রের উত্থান ঘটে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান এবং রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে। তারপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী। তিনটি নির্বাচনে তিনি তিনটি ভিন্ন দলের প্রার্থীকে হারিয়েছেন, যা একদিকে যেমন তৃণমূলের আধিপত্য দেখায়, তেমনই বিরোধী শিবিরে নেতৃত্ব নিয়েও তুলে ধরে।
২০১১ সালে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে সুজিত বসু সিপিএম প্রার্থী পলাশ দাসকে ৩৫,৯২৫ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি কংগ্রেসের অরুণাভ ঘোষকে পরাজিত করেন ৬,৯৮৮ ভোটে। ২০২১ সালে তিনি বিজেপি প্রার্থী সব্যসাচী দত্তকে ৭,৯৯৭ ভোটে হারিয়ে আবারও জয়ী হন। এই ফলাফল বিজেপিকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করতে পারেনি।
বিধানসভায় এই পরিষ্কার আধিপত্যের বিপরীতে লোকসভা নির্বাচনে বিধাননগর অংশে তৃণমূল কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। শেষ তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে যায়। ২০১৪ সালে ৬,৪৮৯ ভোটে, ২০১৯ সালে ১৮,৯১৬ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ১১,১৫৬ ভোটে। ফলে এই বিভাগে টানা তিনবার তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে।
সল্টলেক শহরটি কলকাতার পূর্ব প্রান্তে গড়ে ওঠে জলাভূমি ও নোনা জলের লেক ভরাট করা মূলত ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে এই টাউনশিপের পরিকল্পনা ও নির্মাণ হয়। শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডসের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রাথমিক পরিকল্পনার কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়। নীচু, লবণাক্ত জমিতে বাঁধ তৈরি করে এবং মাটি ও পলি ফেলে এই এলাকা ভরাট করা হয়, যার ওপর গড়ে ওঠে সল্টলেক।
বিধাননগরকে কলকাতার আধুনিক সম্প্রসারণ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছেষ সংখ্যাভিত্তিক সেক্টর, চওড়া রাস্তা ও সবুজ জায়গার পরিকল্পনায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পূর্ব ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সেক্টর ফাইভে অসংখ্য আইটি ও আইটিইএস সংস্থা, কল সেন্টার ও কর্পোরেট অফিস রয়েছে, যার ফলে সল্টলেককে কলকাতার আইটি রাজধানী বলা হয়। এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে সল্টলেক স্টেডিয়াম (আনুষ্ঠানিক নাম বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন), যা ভারতের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামগুলির একটি, পাশাপাশি রয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স।
বিধাননগর রোড, রেল ও মেট্রোর মাধ্যমে কলকাতার অন্য অংশের সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত। সড়ক পথে এটি কলকাতার কেন্দ্র ও এসপ্ল্যানেড থেকে প্রায় ৮–১০ কিলোমিটার দূরে এবং শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ৭–৯ কিলোমিটার। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দূরে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডোর সল্টলেকের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে সেক্টর ফাইভকে শিয়ালদহ ও হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে, ফলে হাওড়া স্টেশন পৌঁছতে আনুমানিক ১২–১৫ কিলোমিটার পথ।
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে জেলা সদর বারাসত বিধাননগর থেকে রেল ও সড়ক পথে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। ব্যারাকপুর সড়ক পথে প্রায় ২৪–২৫ কিলোমিটার। দমদম, নৈহাটি ও কল্যাণীর মতো শহরগুলি ২০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এবং শহরতলি রেল ও মহাসড়কের মাধ্যমে যুক্ত। যদিও বনগাঁ ও বসিরহাট অঞ্চলে বাংলাদেশ সীমান্ত মাত্র ৬০–৮০ কিলোমিটার দূরে, তবু বিধাননগরে মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কারণ এটি সীমান্ত এলাকার মতো অভিবাসন-প্রভাবিত অঞ্চল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত আবাসন ও সরকারি কোয়ার্টারের শহর। বাংলাদেশের খুলনা ও যশোরের মতো বড় শহরগুলি পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়ক ও রেলপথে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।
২০২৪ সালে বিধাননগর কেন্দ্রে মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিল ২,৪৭,৮৫০ জন। ২০২১ সালে ছিল ২,৪৩,৩৬০, ২০১৯ সালে ২,৩১,০৯৪, ২০১৬ সালে ২,২৬,৮৯৭ এবং ২০১১ সালে ২,০০,২৬৫ জন। এটি একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ শহুরে কেন্দ্র। দক্ষিণ দমদম এলাকার কিছু ওয়ার্ডে মুসলিম ভোটার থাকলেও মোট ভোটারের ৫ শতাংশেরও কম। এখানে তফসিলি জাতি ভোটার প্রায় ১৩.৬৬ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি প্রায় ১.৯৫ শতাংশ। শহুরে কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে ভোটদানের হার মোটামুটি ভালো—২০১১ সালে সর্বোচ্চ ৭৪.৩৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮.০৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৬৯.৮৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৬৬.৮০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬৬.৮৬ শতাংশ।
বিধাননগরের নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখায়, এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলছে। ২০০৯ সাল থেকে মোট সাতটি বড় নির্বাচনের মধ্যে তৃণমূল চারবার এগিয়ে থেকেছে এবং বিজেপি তিনবার। স্পষ্ট একটি ধারা লক্ষ্য করা যায়—তৃণমূল কংগ্রেস তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই জয়ী হয়েছে, আর বিজেপি শেষ তিনটি লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থেকেছে। অর্থাৎ, বিধাননগরের ভোটাররা রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনে আলাদা তথ্য মনে রেখে ভোট দেন। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম, অথচ লোকসভায় বিজেপির ব্যবধান বেশি। বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জ হল, কীভাবে তারা জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যকে বিধানসভায় রূপান্তরিত করবে। যদি তারা তা করতে পারে, তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থবার এই আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস চাপের মুখে পড়তে পারে।
Sabya sachi dutta s/o - late gouri sankar dutta
BJP
Abhisek banerjee
INC
Nota
NOTA
Samir sardar
IND
Smriti kana howlader
BSP
Sabyasachi dutta s/o - late shyamal dutta
IND
Sujit bose s/o - late samir bose
IND
Biplab kumar halder
IND
Susoma loho
IND
Arunava ghosh
INC
Susanta ranjan pal
BJP
Nota
NOTA
Ranjan majumder
BSP
Ananda chanda
SHS
Manmohan garodia
IND
Tarun kumar das
SUCI
Palash biswas
IND
Kunal majumder
IND