
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জোরকদমে চলছে যানবাহন সংগ্রহের কাজ। সরকারি ও বাণিজ্যিক গাড়ির পাশাপাশি প্রয়োজন মেটাতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়িও অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠছে, অনেক জায়গায় রাস্তায় দাঁড় করিয়েই যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত গাড়ি চেয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার থেকেই যানবাহন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাস সংগ্রহের কাজও জোরদার হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত চাপে পড়তে হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর।
কী করলে গাড়ি নেওয়া এড়ানো যেতে পারে?
যাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে, তাঁদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি মনে হয় আপনার গাড়িটি নির্বাচনী কাজে নেওয়া হতে পারে, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একটি লিখিত আবেদনে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, গাড়িটি অধিগ্রহণ করা হলে আপনার দৈনন্দিন জীবন কীভাবে ব্যাহত হবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে সেই আবেদন বিবেচনা করে গাড়ি অধিগ্রহণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
নিয়ম কী বলছে?
নির্বাচনী নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথমে সরকারি ও বাণিজ্যিক যানবাহন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি সাধারণত শেষ বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়। তবে শহরে গণপরিবহনের ওপর বাড়তি চাপ থাকায় এবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়িও নেওয়ার সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পর্যবেক্ষকদের যাতায়াতের জন্য এসইউভি গাড়ির চাহিদা বেশি।
কত গাড়ির প্রয়োজন?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতা উত্তরে প্রায় ৯০০টি এবং দক্ষিণে প্রায় ৭০০টি যানবাহন ব্যবহারের কথা রয়েছে। এর মধ্যে যথাক্রমে ২৮৪টি ও ১২৫টি বাস অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও প্রায় একই পরিমাণ গাড়ি প্রয়োজন হবে। তবে প্রশাসনের দাবি, ১৫ মে পর্যন্ত বাসের বড়সড় কোনও ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গাড়ি অধিগ্রহণের পদ্ধতি
এক নির্বাচনী আধিকারিক জানান, দুটি উপায়ে গাড়ি নেওয়া হয়। প্রথমত, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা নির্বাচন আধিকারিক দরপত্রের মাধ্যমে যানবাহন সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয়ত, ‘ওসি-ইলেকশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন নাকা চেকপোস্টে আরটিও-র সহায়তায় সরাসরি গাড়ি অধিগ্রহণ করা হয়। যদি এইভাবে কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া হয়, তবে মালিকরা জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে পারেন। ‘সুবিধা’ অ্যাপের মাধ্যমেও এই আবেদন জানানো যায়।
আইন কী বলছে?
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে কমিশন ব্যক্তিগত গাড়ি, এমনকি বাড়ি বা ব্যক্তিকেও কাজে লাগাতে পারে, এমন আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে যানবাহন সংগ্রহ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা যেমন বাড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। তাই সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।