
সল্টলেকে এবার ভোটের লড়াই শুধু জেতা নয়, জয়ের ব্যবধান বাড়ানোই বড় লক্ষ্য করেছে তৃণমূল। ‘সুজিত বসু পঞ্চমবার’, এই স্লোগানে ইতিমধ্যেই ছেয়ে গিয়েছে বিধাননগরের পাড়া-মহল্লা। পরপর চারবারের বিধায়ক সুজিত বসুকেই পঞ্চমবারের জন্য প্রার্থী করেছে দল, আর তাঁকে জেতাতে পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা।
গত লোকসভা নির্বাচনে সল্টলেকের অন্তর্গত ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার মার্জিন বাড়ানোকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবে নিয়েছে দল। ব্লকে ব্লকে বৈঠকের পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে বাড়ি বাড়ি প্রচারে। এই প্রচারে সরাসরি নেমে পড়েছেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররাও। প্রত্যেকেই নিজের ওয়ার্ডে বেশি ভোটে লিড দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, বিধাননগরে লড়াই যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন সব্যসাচী দত্ত, যিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে প্রায় ৮ হাজার ভোটে জয় পান সুজিত বসু। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে, সব্যসাচী দত্ত আবার তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলও এই কেন্দ্রের লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সল্টলেকের মাত্র ৪টি ওয়ার্ডে এগিয়ে থাকলেও বাকি ১০টিতে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তাই এবার এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল। তৃণমূলের যুক্তি, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফল আলাদা হয়, ২০১৯-এ পিছিয়ে থাকলেও ২০২১-এ জয় পেয়েছিল তারা।
দলের তরফে দাবি, বিধায়ক হিসেবে সুজিত বসু এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নতুন বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ায় ভিআইপি রোডে ওঠানামা সহজ হয়েছে, পাশাপাশি রাস্তা সংস্কারের কাজও হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, এই উন্নয়নই ভোটে প্রভাব ফেলবে।
তবে বিজেপিও আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি, এবার দলীয় পুরনো মুখকেই প্রার্থী করা হয়েছে, ফলে সংগঠন আরও মজবুত। লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিধানসভায়ও জয় পাওয়ার আশায় রয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে, সল্টলেকে এবার ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে, তৃণমূল মার্জিন বাড়াতে মরিয়া, বিজেপি জয়ের স্বপ্ন দেখছে, আর সিপিএমও নিজেদের সংগঠন গুছিয়ে মাঠে নামায় ভোটের লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।