
আরজি কর। কলকাতা শহরের প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল। যেখানে কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালেরই অন্দরে নৃশংস ভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। ঘটনার দেড় বছরের মাথায় বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে। আর সেই নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু এই আরজি কর। বাংলা তথা গোটা দেশ, এমনকী বিশ্বের নানা প্রান্তকে নাড়িয়ে দেওয়া এই ধর্ষণ ও খুনের পর পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তরুণীর মা-বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার চেয়েছেন সকলেই। রাজপথ দখল, দিনের পর দিন বিচার চেয়ে অনশন। তবে রাজনীতিও কম হয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে জল্পনা, এবার ভোটে লড়বেন তরুণীর বাবা-মা। খোঁজ নিল bangla.aajtak.in.
জানা গিয়েছে, বাম কিংবা BJP-র মতো রাজনৈতিক দল সহ একাধিক ক্ষেত্র থেকে আরজি করে নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের কাছে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব গিয়েছে। প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্যের শাসকদলও। পানিহাটি বিধানসভা আসন থেকে কি তাঁদের মধ্যে একজন প্রার্থী হচ্ছেন? এমনকী, ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়াতে পারেন বলেও খবর রটেছে।
এ প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in-কে আরজি করে নিহত তরুণীর বাবা বলেন, 'ওই দিকে আমরা নেই। এই ধরনের প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গে আমরা নাকচ করে দিয়েছি।' তাঁর সংযোজন, 'আমাদের মেয়ের ন্যায়বিচারই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্য কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই। যদি প্রস্তাব এসেও থাকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছি, করবও।'
ন্যায়বিচারের দাবিতে এখনও আইন-আদালতে লড়ে চলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। বাবার বক্তব্য, 'ন্যায়বিচার এখনও মেলেনি। কেউ সহযোগিতা করছে না আমাদের। আদালত পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। CBI কী করবে এবার সেটা তাদের ব্যাপার। CBI-এর উপর আস্থা রাখা ছাড়া আর কী করব? কলকাতা পুলিশের কাছে যাব? আদালতে আমাদের পিটিশন আছেই।'
এর আগেও সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, BJP, বাম, এমনকী তৃণমূলের তরফে তাঁদের কাছে ভোটে লড়ার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু তাঁরা সেই সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকী, তাঁরা ভোট আদৌ দেবেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত নন। এখন শুধুই হতাশা আর পড়ে থাকা স্মৃতি। যে দলই সরকার গড়ুক, ক্ষমতার শীর্ষে যিনিই থাকুন, আরজি করের নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের একমাত্র দাবি, সুবিচার।
২০২৪-এর ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। কলকাতা পুলিশের তদন্তেই কার্যত সায় দেয় CBI। সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে শিয়ালদা আদালত। কিন্তু এই রায়ে সন্তুষ্ট নন বাবা-মা। তাঁদের মতে, রহস্যের জট এখনও খোলেনি।