Advertisement

Mamata on Matua Community: বীণাপানিদেবীর মৃত্যুদিনেও SIR ইস্যু খোঁচালেন মমতা, সোশ্যাল পোস্টে BJP-কে টার্গেট

মতুয়াদের ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

'মেনে নেব না...', SIR আবহে বডমা স্মরণে মতুয়া আবেগ উস্কালেন মমতা'মেনে নেব না...', SIR আবহে বডমা স্মরণে মতুয়া আবেগ উস্কালেন মমতা
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Mar 2026,
  • अपडेटेड 12:44 PM IST

সাম্প্রতিক অতীতের একাধিক নির্বাচনে মতুয়াদের সমর্থন বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলে ভোট বিশ্লেষকদের মত। বিভিন্ন এলাকায় মতুয়াদের উপস্থিতি ও ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে অনেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েন মতুয়ারা। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটাই উঠে আসে। মতুয়াপ্রধান লোকসভা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও নদিয়ার রানাঘাটে বড় ব্যবধানে জিতেছিল বিজেপি। বনগাঁয় শান্তনু ঠাকুর জেতেন এক লক্ষের বেশি ভোটে। রানাঘাটে জগন্নাথ সরকারের জয়ের ব্যবধান ছিল দু’লক্ষেরও বেশি। বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভার অধীন ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট নির্ণায়ক। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর, হাবরা, সন্দেশখালি, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, কালনা, রায়নাতেও এই জনগোষ্ঠীর মানুষরাই ফলাফল ঠিক করে দেন। রাজ্যে এমন আসন সংখ্যা কমবেশি ৩০। সীমিত হলেও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে মতুয়াদের প্রভাব আছে। তাই মতুয়াদের মন পেতে প্রধান দুই শিবিরের চেষ্টার অন্ত নেই। আর এই আবহেই মতুয়া সংঘের বড়মা বীণাপানিদেবীর  প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের রাজ্য সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী করেছিলেন এবং এখনও কী কী করছেন সমস্ত তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

বড়মা বীণাপানি দেবীর প্রয়াণ দিবসে মতুয়া আবেগে শান দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডল পোস্টে  লিখেছেন,'বিজেপি সরকারের চক্রান্তে মতুয়া ভাই-বোনেদের অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। SIR করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়।...তাঁদের নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।এই অন্যায় আমরা মেনে নেব না।'

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ নির্নায়ক। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘স্টেট ইনভেন্টরি রেজিস্টার’ বা এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে। অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়াসহ একাধিক জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম এই তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, অথবা অনেকের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। SIR-এর রেজাল্ট আউটের পর,নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত SIR-এ প্রায় সাড়ে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া, জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৯৭ এবং নদিয়ায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার নাম গেছে।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই দুই জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্য়াক্টর। আর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই মতুয়াদের  ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

এক্স হ্যান্ডেলে মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন এক মানবিক সমাজ গড়ার যে আন্দোলন এই মহাসংঘ শুরু করেছিল, বড়মা সারাজীবন সেই আদর্শকেই লালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মতুয়া মহাসংঘ সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড়মার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিগত, আত্মিক। তাঁর মাতৃস্নেহের পরশ আমি নিবিড়ভাবে পেয়েছিলাম – এ আমার জীবনের পরম পাওয়া। তাঁর চিকিৎসাসহ যেকোনো দরকারে তিনি যখনই আমাকে ডেকেছেন, আমি ছুটে গেছি তাঁর কাছে। এটা আমার গর্ব, আমাদের সরকার তাঁর অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য বড়মা’কে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।'

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও সংযোজন,'শুধু তাই নয়, মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্যও আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্মদিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে, ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন ক্যাম্পাস। গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ করা হয়েছে।পানীয় জলের জন্য হাবড়া-গাইঘাটা – ‘জলতৃপ্তি’ জল প্রকল্প করা হয়েছে। ইছামতী নদীর ওপর মুড়িঘাটা ব্রিজ ও বলদেঘাটা খালের ওপর কুঠিপাড়া নাগবাড়ী ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে। গাইঘাটায় নতুন ITI ও Polytechnic কলেজ করা হয়েছে। গাইঘাটায় হয়েছে কিষাণ মান্ডি। ঠাকুরনগরের বিখ্যাত ফুলবাজার ও ফুল-চাষীদের কথা মাথায় রেখে ওখানে ফুলমান্ডি করা হচ্ছে। ঠাকুরনগরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।' এরপরেই SIR  নিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন,'কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই-বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেবার নামে রাজনীতির খেলা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। SIR করে ইচ্ছে করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, আজ তাঁদের নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।  এই অন্যায় আমরা মেনে নেবো না। আমার মতুয়া ভাইবোন সহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। বাংলার মানুষের গায়ে কোনো আঁচ পড়তে আমরা দেব না। এই বিশেষ দিনে এ আমার অঙ্গীকার।'


 

Read more!
Advertisement
Advertisement