
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার অন্তর্গত ব্লকস্তরের শহর গাইঘাটা। এটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চরিত্র বদলেছে। কংগ্রেস ও বামেদের দ্বন্দ্ব থেকে সরে এসে এখন এটি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে গোবরডাঙা পুরসভা, গাইঘাটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হাবরা–১ ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এই কেন্দ্রটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গাইঘাটা মোট ১৪ বার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৪ বার জয় পেয়েছে। CPIM জি...
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার অন্তর্গত ব্লকস্তরের শহর গাইঘাটা। এটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চরিত্র বদলেছে। কংগ্রেস ও বামেদের দ্বন্দ্ব থেকে সরে এসে এখন এটি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে গোবরডাঙা পুরসভা, গাইঘাটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হাবরা–১ ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এই কেন্দ্রটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গাইঘাটা মোট ১৪ বার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৪ বার জয় পেয়েছে। CPIM জিতেছে ৪ বার। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত টানা ৩ বার এবং আবার ১৯৯৬ সালে। কংগ্রেস জিতেছে ৩ বার, বাংলা কংগ্রেস জিতেছিল ২ বার (১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে), আর BJP একবার, ২০২১ সালে।
তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পরপরই গাইঘাটায় বড় সাফল্য পায়। ২০০১ সালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তৎকালীন CPIM বিধায়ক মনমথ রায়কে ১১ হাজার ৬৯০ ভোটে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। ২০০৬ সালে তিনি আবার জয়ী হন, যদিও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮১৯ ভোটে। এরপরের ৩টি নির্বাচনে তৃণমূল প্রতিবারই প্রার্থী বদলের কৌশল নেয়। ২০১১ সালে মঞ্জুল কৃষ্ণ ঠাকুর সিপিআই প্রার্থী মনোজ কান্তি বিশ্বাসকে ২৫ হাজার ৪৭২ ভোটে হারিয়ে আসন ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে পুলিন বিহারী রায় CPI-এর কপিল কৃষ্ণ ঠাকুরকে ২৯ হাজার ৫৭২ ভোটে পরাজিত করে তৃণমূলের টানা চতুর্থ জয় নিশ্চিত করেন। তবে ২০২১ সালে এই প্রার্থী বদলের কৌশল ব্যর্থ হয়। তৃণমূলের নরোত্তম বিশ্বাসকে পরাজিত করে BJP প্রার্থী সুব্রত ঠাকুর ৯ হাজার ৫৭৮ ভোটে জয়ী হন। এর আগে BJP এখানে দূরবর্তী তৃতীয় শক্তি ছিল, কিন্তু ওই নির্বাচনে তারা হঠাৎই শীর্ষে উঠে আসে।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল গাইঘাটায় BJP-র উত্থানকে আরও স্পষ্ট করে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনে তৃণমূল এখানে স্বচ্ছন্দে এগিয়ে ছিল। ২০০৯ সালে CPIM-এর থেকে ১৮ হাজার ৮০২ ভোটে এবং ২০১৪ সালে ২১ হাজার ৩৯১ ভোটে। কিন্তু ২০১৯ সালে BJP নাটকীয়ভাবে চিত্র বদলে দেয় এবং তৃণমূলের উপর ৩৫ হাজার ৯৪৮ ভোটের লিড নেয়। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান কিছুটা কমলেও BJP-র লিড ছিল এখনও উল্লেখযোগ্য। ২৭ হাজার ৫ ভোট দেখায় তাদের উত্থান ক্ষণস্থায়ী নয়।
২০২৪ সালে গাইঘাটায় নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৬৮ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৩। ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯৬। ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৩১১ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ১৮৬। তফসিলি জাতির ভোটার এখানে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। মোট ভোটারের ৪৩.৮১ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার প্রায় ২.৫৮ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৯ শতাংশেরও কম। এটি মূলত একটি গ্রামীণ কেন্দ্র, যদিও বনগাঁ–বারাসত করিডর এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। মোট ভোটারের ৬১.১৩ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৩৮.৮৭ শতাংশ শহুরে এলাকায় বসবাস করেন। ভোটদানের হার বরাবরই উঁচু থাকলেও সময়ের সঙ্গে সামান্য কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১১ সালে ৮৮.৩৬ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.০২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৩.৮৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.৭৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৩.০৮ শতাংশ।
গাইঘাটা উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর অংশে, বনগাঁ মহকুমায় অবস্থিত এবং ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। এটি নিম্ন গাঙ্গেয় পলল সমভূমির অংশ, ভূমি সমতল ও উর্বর, নদী, খাল ও জলাশয়ের ঘন জালের মধ্যে অবস্থিত। ইছামতী নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী, যা নদিয়া জেলা থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় প্রবেশ করে বাগদা, বনগাঁ, গাইঘাটা ও স্বরূপনগর হয়ে দক্ষিণে সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষায় নীচু জমিতে জল জমার প্রবণতা থাকলেও পলল মাটি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। বোরো ও আমন ধান প্রধান ফসল, যা নদী, খাল, অগভীর নলকূপ ও পুকুরের জল দিয়ে সেচের মাধ্যমে চাষ হয়। পাট, সবজি ও তৈলবীজও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপন্ন হয়। অনেক পরিবার গ্রামীণ পুকুরে মাছচাষ করে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজে পায়। কৃষির পাশাপাশি বহু মানুষ ছোট দোকান, পরিবহণ, ইটভাটা ও নির্মাণক্ষেত্রে কাজ করেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কাজের জন্য বনগাঁ, বারাসত ও কলকাতা শহরতলির দিকে যাতায়াত বা স্থানান্তর করেন।
সড়কপথে গাইঘাটা বনগাঁ–বারাসত–কলকাতা করিডরের সঙ্গে যুক্ত। বনগাঁ, যা মহকুমা সদর ও নিকটতম বড় শহর, ব্লকের বিভিন্ন অংশ থেকে সড়কপথে প্রায় ১৫–২০ কিমি দূরে এবং বাজার, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজের প্রধান কেন্দ্র। জেলা সদর বারাসত আরও দক্ষিণে, বনগাঁ থেকে সড়কপথে প্রায় ১০০ কিমির কিছু কম দূরে, এবং বারাসত–বনগাঁ রুটের মাধ্যমে গাইঘাটার সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা রেলপথে প্রায় ৭০–৮০ কিমি দূরে এবং সড়কপথে কিছুটা বেশি।
রেল যোগাযোগ মূলত শিয়ালদহ–বনগাঁ শাখা লাইনের উপর নির্ভরশীল। এই লাইনের স্থানীয় স্টেশনগুলি থেকে বনগাঁ, বারাসত ও শিয়ালদা হয়ে কলকাতা এবং বৃহত্তর শহরতলিতে যাতায়াত করা যায়। বনগাঁর পরেই পেট্রাপোল স্টেশন, যা বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর সংলগ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সীমান্ত পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গাইঘাটা সরাসরি সীমান্তে না হলেও আন্তর্জাতিক সীমারেখা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। বনগাঁ হয়ে সড়কপথে বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ২০–২৫ কিমি।
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যেই গাইঘাটা হাবরা, গোবরডাঙা ও অশোকনগরের মতো শহরের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত, ফলে এটি কলকাতা মহানগরীর উত্তর প্রান্তীয় বলয়ের অংশ। পশ্চিমে নদিয়া জেলার সীমানা এবং পূর্বে বসিরহাট–হাসনাবাদ এলাকার কাছাকাছি অবস্থান থাকলেও, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক দিক থেকে এর মূল অভিমুখ বনগাঁ ও বারাসতের দিকেই।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গাইঘাটায় BJP স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তফসিলি জাতি ভোটারদের সঙ্গে দলের শক্ত সম্পর্ক ২০২১ সালের বিধানসভা জয় এবং ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় লিডের মধ্যেই প্রতিফলিত। বিপরীতে, মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কম হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এখানে কাঙ্ক্ষিত সমীকরণ গড়ে তুলতে পারছে না। উপরন্তু, তৃণমূল-বিরোধিতার কারণে প্রাক্তন বাম কর্মী ও দৃঢ় ভোটারের একাংশ BJP-র দিকে সরে গিয়েছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এখন এক অঙ্কের ভোটে নেমে এসেছে এবং ফলাফলে প্রভাব ফেলার মতো শক্তি আর তাদের নেই।
এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূল যদি তফসিলি জাতি ভোটারদের একটি বড় অংশ আবার নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনতে না পারে এবং পুরনো BJP-বিরোধী ভিত্তির কিছুটা পুনর্গঠন করতে না পারে, তবে গাইঘাটায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে বিজেপি স্পষ্টতই এগিয়ে থাকবে।
Narottam biswas
AITC
Kapil krishna thakur
CPI
Dr. sajal biswas
IND
Nota
NOTA
Beauty sarkar
BSP
Nanibala biswas (das)
SUCI
Tushar kanti halder
IND
Biswajit roy
IND
Kapil krishna thakur
CPI
Sankar thakur
BJP
Nota
NOTA
Anil bairagi
BSP
Nandita mondal
IND
Nanibala biswas ( das)
SUCI
Bikash biswas
IND