
SIR-এর প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হবে তো? এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ট্রাইবুনাল গঠন করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন,সেই ট্রাইবুনালে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং হাই কোর্টের দু’-তিন জন বিচারপতি থাকবেন। তাঁর এও নির্দেশ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যে ভোট সামনে থাকায় যতজন বিচারপতির প্রয়োজন, ততজনকেই নিয়োগ করতে হবে। কারণ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ না হওয়ার কলকাতা হাইকোর্টের উপরও চাপ বাড়ছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি আর. মাহাদেবের বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক আবেদন নিয়ে শুনানি করছিল। এই আবেদনে নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকায় ভোটারদের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও, SIR প্রক্রিয়ার পরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগে রাজ্যের কিছু ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে নতুন দুটি আবেদনও দায়ের করেন।
প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, এই কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের সমস্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে হবে। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেসব প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতি এই দায়িত্ব নিতে সম্মত হবেন তাঁদের নিতে হবে। সেই পুরো খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সুপারিশই চূড়ান্ত হবে এবং তা বিলম্ব না করে কার্যকর করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় আপডেটেড ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
এছাড়াও, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত পোর্টালে যে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিঘ্ন ঘটছে, তা দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাধা না আসে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারিক আধিকারিকদের জন্য নতুন লগইন আইডিও দ্রুত তৈরি করতে হবে।
শুনানির সময় প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করণারায়ণ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নজরে আনেন।
প্রথমত, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিচারিক আধিকারিকরা যদি কারও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি খারিজ করেন, তাহলে আপিল করার ব্যবস্থা কী হবে।
দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যেই যেসব আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে, যার সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি, তাদের সম্পূরক তালিকা প্রকাশের বিষয়টি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি-র আদেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, বিচারিক আধিকারিকদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো নির্বাহী বা প্রশাসনিক ফোরামে আপিল করা যাবে না।