
'ভাষার নামে হিন্দুদের ভোট ভাগ করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মহুয়ার মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী বলে ইতিমধ্যেই দলের কাউন্সিলর মারফত জানিয়েছেন মমতা। তাঁর বার্তা,'দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইছি'।
শনিবার অমিত শাহের চার্জশিটের পর পাল্টা চার্জশিট দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ওই সাংবাদিক বৈঠকে বাঙালি অস্মিতার কথা বলতে গিয়ে স্বাধীন সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মহুয়া মৈত্র। বলেছিলেন,'বাঙালিরা গর্বিত জাতি। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছিলেন বাঙালিরাই। তখন গুজরাতিরা কোথায় ছিলেন? কালাপানি যাওয়া বিপ্লবীদের ৬০ শতাংশ বাঙালি। বাকি পঞ্জাবি। একজন গুজরাতির নামও বলতে পারবেন?' সাভারকরের ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেও খোঁচা দেন মহুয়া।
ভবানীপুরের একটা বড় অংশ অবাঙালি ভোটার! এর মধ্যে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ বাসিন্দাই গুজরাতি। স্বাভাবিকভাবে ভোটের আগে মহুয়ার মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছে গেরুয়া শিবির। এহেন পরিস্থিতিতে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুকে বার্তা পাঠান মমতা। ফেসবুকে অসীম জানান, তৃণমূলের এক সাংসদ যা বলেছেন, তার নিন্দা করেছেন আমাদের দলের সুপ্রিমো। ওঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই মন্তব্য তৃণমূল সমর্থন করে না। ওটা তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য।
এরপর অসীম মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পাঠ করে শোনান,'আমার সমস্ত গুজরাতি ভাই ও বোনেদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের নিয়ে আমি গর্বিত। আপনারা আশ্বস্ত থাকুন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইছি'।
রাতে ভবানীপুরে গিয়ে শুভেন্দু বলেন,'ভাষার নামে হিন্দুদের ভোট ভাগ করতে চাইছেন। এবার ভাগ হবে না। বিজয়া সম্মিলনীতে বলেছিলেন, বহিরাগতরা ভবানীপুর দখল করে নিচ্ছে। গুজরাতি, বাঙালি ভাগ করতে চাইছেন মমতা। এবার হিন্দুরা ভাগ হবে না। আমাদের ভিন্ন মত থাকতে পারে। দিনের শেষে আমরা সনাতনী। এটা ওঁর ভোটের রাজনীতি'।