
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে আবারও দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নাম না করে আক্রমণে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, 'নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ যা বলবেন, তিনি (জ্ঞানেশ কুমার) তাই করবেন।'
পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিজেপি কমিশনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেই দিল্লিতে ভোট জিতেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দিল্লির নির্বাচনের আগে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম নতুন করে ভোটার লিস্টে যুক্ত করা হয়েছিল। এভাবেই তারা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারিয়েছে।'
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়েও প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে SIR হচ্ছে। কিন্তু কোথাও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাকেই টার্গেট করা হয়েছে বলে মনে করেন অভিষেক। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কেরলে কোথাও লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি শব্দটি ব্যবহার হয়নি। এমনকী বিহারেও ব্যবহার হয়নি। কিন্তু শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি!'
পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই SIR এর জন্য বাংলায় ২০০ জন মারা গিয়েছে। তারপরও কোনও লজ্জা নেই কমিশনের।
ফর্ম ৬ নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ...
সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ কুমার অগরবালের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন একটি দল। আর সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, বাংলার কমিশনের দফতরে বস্তা ভর্তি করে ফর্ম ৬ (ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম) নিয়ে ঢুকেছে বিজেপি। এর মাধ্যমে তারা বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটার করার চেষ্টা করছে। এভাবেই ভোটে জিততে চাইছে বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলেছি। প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়ে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের মানুষকে এখানকার ভোটার বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।'
এখানেই শেষ না করে তাঁর আরও অভিযোগ, 'আমাদের কিছু শুভাকাঙ্খি রয়েছে। তাঁরাই এই তথ্য আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এই অফিসে (কমিশনের অফিস) পেটি ভর্তি করে ফর্ম ৬ রাখা রয়েছে। আমি ট্যুইটারে বিষয়টা দিয়েছি।'
তাঁর দাবি, নোয়াপাড়া বিধানসভায় জমা পড়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ ফর্ম ৬। এছাড়া ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর, এগরা, উত্তর কলকাতার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের লোক ঢোকাতে ফর্ম ৬ জমা পড়েছে।
এই প্রসঙ্গে নিজের অভিযোগ জানানোর পর তিনি মনোজের কাছে ২৪ ঘণ্টার ফুটেজ দেখানোর দাবি তোলেন। যদিও এই বিষয়ে কমিশনার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বলেই জানিয়েছেন অভিষেক।