
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত এগরা মহকুমা। তবে এটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এগরা পুরসভা, এগরা এক নম্বর ব্লক ও এগরা ২ নম্বর ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫৭ সালে এগরা আসনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে একটি উপনির্বাচন সহ মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এখানে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আসনটি টানা পাঁচবার জিতেছিল প্রজা সমাজতান্ত্রিক দল। তারপর থেকে প্রবোধ চন্দ্র সিনহা এই আসনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬ বার জেতেন তিনি। প্রথমে ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে, তারপর ১৯৮২ এবং ১৯৮৭ সালে নির্দল হিসেবে। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে সিপিআই(এম)-এর টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, যদিও ২০০১ সালে ফের নির্...
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত এগরা মহকুমা। তবে এটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এগরা পুরসভা, এগরা এক নম্বর ব্লক ও এগরা ২ নম্বর ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫৭ সালে এগরা আসনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে একটি উপনির্বাচন সহ মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এখানে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আসনটি টানা পাঁচবার জিতেছিল প্রজা সমাজতান্ত্রিক দল। তারপর থেকে প্রবোধ চন্দ্র সিনহা এই আসনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬ বার জেতেন তিনি। প্রথমে ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে, তারপর ১৯৮২ এবং ১৯৮৭ সালে নির্দল হিসেবে। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে সিপিআই(এম)-এর টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, যদিও ২০০১ সালে ফের নির্দল প্রার্থী হয়ে জেতেন। তবে তারপর ২০০৬ ও ২০০৯ সালে দাঁড়ালেও আর জিততে পারেননি। এই আসনটি ১৯৭২ সালে কংগ্রেস দল মাত্র একবারই দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী ২০০৬ সালে এগরা থেকে জেতেন। তাঁর হাত ধরেই এখানে খাতা খোলে তৃণমূল কংগ্রেস। সেবার প্রবোধ চন্দ্র সিনহা ১,৫৯০ ভোটে পরাজিত হন। এরপর লোকসভায় চলে যান শিশির অধিকারী। ফলে সেই আসনে উপ-নির্বাচন হয়। তখনও হারের মুখ দেখতে হয় প্রবোধ চন্দ্র সিনহাকে। তাঁকে ৫,৯৫০ ভোটে পরাজিত করেন ঘাস ফুল শিবিরের প্রার্থী সমরেশ দাস। এরপর তিনি ২০১১ ও ২০১৬ সালে হৃষিকেশ পারিয়া এবং শেখ মাহমুদ হোসেনকে পরাজিত করেন। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিডে মৃত্যু হয় তাঁর। ঠিক তার পরের বছর ভোটে সেই আসনে তরুণ কুমার মাইতিকে প্রার্থী করে রাজ্যের শাসকদল। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অরূপ দাসকে ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটে হারান। এগরা বিধানসভা আসনটি তৃণমূল জিতলেও ২০১৯ ও ২০১৪ লোকসভা ভোটে লিড পেয়েছে বিজেপি। প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর চেয়ে ৮,৬৯৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। আবার তার পরের লোকসভায় বিজেপির ব্যবধান বেড়ে হয় ৮,৯৯৮ ভোট। ২০২৪ সালে এগরায় ২,৯৮,৫১৬ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলের। ২০২১ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ২৮৪,৬১৪ এবং ২,৭৪,৯৫৬ জন। তপসিলি জাতি ১৪.২৫ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ভোটারের হার ১.০২ শতাংশ। নির্বাচনী এলাকাটি মূলত গ্রামীণ। মাত্র ৯ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলের। ভোটার উপস্থিতি বেশিই থাকে। ২০২১ সালে ৮৪.৭৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৯২ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮০.২৫ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৮২.৪৪ শতাংশ লোকসভা ভোট পড়েছিল। এগরা পলিমাটি সমৃদ্ধ এলাকা। এর চারপাশে রয়েছে বনভূমি ও নদী-পুকুর। তমলুকের মতো এগরাও ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ জায়গা। এর প্রাচীন নাম আগ্রাপত্তন। এক সময় বাণিজ্যিকভাবে জায়গাটি খুব উন্নত ছিল। এখানকার অর্থনীতি ধান, সবজি চাষ, মৃৎশিল্প ও ছোটো ব্যবসার উপর দাঁড়িয়ে। এগরার কাছে সবথেকে বড় শহর কাঁথি। যা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া ৬০ কিলোমিটার দূরে হলদিয়া, ৫০ কিলোমিটার দূরে তমলুক। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা সড়কপথে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। পূর্ব মেদিনীপুরের সীমান্তে ওড়িশা অবস্থিত। তাই সেই রাজ্যের জলেশ্বর, বালেশ্বর খুব কাছে অবস্থিত। চিকিৎসার কারণে ওড়িশার সেই সব জায়গায় যান এগরার বাসিন্দারা। গত ৫ বিধানসভা ভোটে এই আসনে লাগাতার তৃণমূল জেতায় এখন তা রাজ্যের শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। তবে গত ২ লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখলে পরিষ্কার যে এই আসনে শক্তি বাড়িয়েছে পদ্ম শিবির। তাই এই আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। গত ভোটে কংগ্রেস ও বামেরা একসঙ্গে লড়লেও ভোটারদের মধ্য়ে প্রভাব ফেলতে পারেনি দুই দল। তাদের এবারও এই আসনে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
Arup dash
BJP
Manas kumar karmahapatra
INC
Nota
NOTA
Jagadis sau
SUCI
Shaikh mahmud hossain
DSP(P)
Minati sur
BJP
Nota
NOTA
Jagadis sau
SUCI
Gourishankar raymahapatra
SP