
নির্বাচনের পারদ তুঙ্গে। জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দল। প্রচারে বেরিয়ে প্রতিদিনই মাছ-মাংস-ডিম খাওয়া নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি সভাতেই নেত্রীর বক্তব্য, 'বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ খাওয়া হয় না। বিজেপি যদি এখানে আসে, আপনারা মাংস বা ডিম কিছুই খেতে পারবেন না।' এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি নেতা ও প্রার্থীদের মুখে শোনা যাচ্ছে মাছ খাওয়ার কথা। এবার ভোটমুখী বঙ্গে মোদীর মুখেও শোনা গেছে 'মাছ-ভাত' কথা। মিনাখাঁর হাড়োয়া সার্কাস ময়দানের জনসভা থেকে যার জবাব দিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীও।
মাছ নিয়ে মোদী
মেদিনীপুরের সভা থেকে 'মাছে-ভাতে' বাঙালিকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ মাছ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে যে লাগাতার প্রচার চালিয়ে এসেছে তৃণমূল ঘুরপথে তার জবাব দেওয়ার জন্য হলদিয়া শিল্পতালুককেই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ বৃহস্পতিবার সমুদ্র উপকূল জেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, '১৫ বছরের শাসনকালে তৃণমূল আপনাদের মাছটুকুও খাওয়াতে পারেনি ৷ গত ১১ বছরে ভারতের মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে ৷ কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকারের পাপের জন্য মাছ উৎপাদনও কমে গিয়েছে ৷ অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় মাছ আনতে হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলা স্বনির্ভর নয়।' আর তারপরই প্রধানমন্ত্রীর সাফ বার্তা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবনের মান ভালো করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবাব দিলেন মমতা
মিনাখাঁর হাড়োয়া সার্কাস ময়দানের জনসভা থেকে রাজ্যের মাছ উৎপাদন নিয়ে পাল্টা তথ্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী বলেন,' ইলিশমাছ আগে পাওয়া যেত না, ওপার বাংলা থেকে আনতে হত , ইলিশ মাছ যাতে বাংলায় জন্মায় ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। এখন অনেক ইলিশ বাংলায় জন্মায়। অঢেল মাছ হচ্ছে। ডিম হায়দরাবাদ থেকে আনতে হত, এখন রাজ্যেই ৯০ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে। চুনো ও পুঁটি মাছ সংরক্ষণ করে বড় করা হচ্ছে। আমার চাই হায়দরাবাদ থেকে যাতে মাছ খেতে না হয়। ওতে বেশি টাকা লাগে । রাজ্যের মৎস্যজীবিরাই যাতে উপকৃত হন।' পাশাপাশি মমতা বলেন, মৎস্যজীবির হারিয়ে গেলে কার্ড দিয়েছি। এটা আমাদের সামজিক দায়িত্ব।