
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র হলদিয়া। এই কেন্দ্রটি দ্রুত বেড়ে ওঠা একটি বন্দর ও শিল্পনগরীকে ঘিরে তৈরি। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ২০১১ সালে তৈরি হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রটি হলদিয়া পৌরসভা এবং সুতাহাটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে তৈরি। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এখনও পর্যন্ত এই আসন থেকে দু’জন মহিলা বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১১ সালের প্রথম নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শিউলি সাহা সিপিআই(এম) প্রার্থী নিত্যানন্দ বেরাকে ১১,৯২৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালে সিপিআই(এম)-এর তাপসী মণ্ডল তৃণমূলের মধুরিমা মণ্ডলকে ২১,৪৯৩ ভোটে পরাজিত করে আসনটি আবার দখল করেন। ২০২০ সালে তিনি...
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র হলদিয়া। এই কেন্দ্রটি দ্রুত বেড়ে ওঠা একটি বন্দর ও শিল্পনগরীকে ঘিরে তৈরি। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ২০১১ সালে তৈরি হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রটি হলদিয়া পৌরসভা এবং সুতাহাটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে তৈরি। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এখনও পর্যন্ত এই আসন থেকে দু’জন মহিলা বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১১ সালের প্রথম নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শিউলি সাহা সিপিআই(এম) প্রার্থী নিত্যানন্দ বেরাকে ১১,৯২৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালে সিপিআই(এম)-এর তাপসী মণ্ডল তৃণমূলের মধুরিমা মণ্ডলকে ২১,৪৯৩ ভোটে পরাজিত করে আসনটি আবার দখল করেন। ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হলদিয়া ধরে রাখেন। তিনি তৃণমূলের স্বপন নস্করকে ১৫,০০৮ ভোটে হারিয়ে। ২০২৫ সালে তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে হলদিয়া বিধানসভা অংশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অদল-বদল দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল এখানে সিপিআই(এম)-এর উপর ২,৫৬০ ভোটের লিড পায়। ২০১৪ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১১,৪৯৫ ভোটে। ২০১৯ সালে এই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। সেই ভোটে তৃণমূল বিজেপির থেকে ৬৩,৮২১ ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৪ সালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূলের থেকে ১৮,৫০১ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে হলদিয়ায় নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৬৩,৪৬১। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,৫১,০৫১, ২০১৯ সালে ২,৩৯,০৬১, ২০১৬ সালে ২,২৩,৩৭০ এবং ২০১১ সালে ১,৮৮,৬৫৩। যে তফসিলি জাতির জন্য এই আসন সংরক্ষিত, তারা মোট ভোটারের ২৩.০৩ শতাংশ। মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা ১৯.২০ শতাংশ। মাথায় রাখতে হবে, হলদিয়া একটি আধা-শহুরে কেন্দ্র। এখানে ৬৩.৪৭ শতাংশ ভোটার শহুরে এবং ৩৬.৫৩ শতাংশ গ্রামীণ। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে কিছুটা কমেছে। যেমন ধরুন- ২০১১ সালে ৯২.৫০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৯০.৪৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৮.৫৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৮.১৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৫.৯৮ শতাংশ। ঐতিহাসিকভাবে, হলদিয়া ছিল হলদি ও হুগলি নদীর নিম্ন অববাহিকার একটি নিচু অঞ্চল। এখানে যেখানে ছোট ছোট গ্রাম, খাঁড়ি ও ম্যানগ্রোভ বন ছড়িয়ে ছিল। এই কেন্দ্রের আধুনিক ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে, যখন কলকাতার পরিপূরক হিসেবে একটি নতুন গভীর বন্দর এবং একটি বড় সরকারি তেল শোধনাগার-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য এই অঞ্চলটি বেছে নেওয়া হয়। বড় জাহাজকে বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি এনে পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে কলকাতা বন্দরের অংশ হিসেবে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়। হলদি ও হুগলি নদীর সঙ্গমে ১৯৭৫ সালে ইন্ডিয়ান অয়েলের হলদিয়া রিফাইনারি চালু হয়। জাপানি সহযোগিতায় একটি পরিকল্পিত শিল্পনগরী তৈরি করা হয়, যেখানে ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানদের জন্য থাকার জায়গা গড়ে ওঠে। আজ হলদিয়া পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পকেন্দ্র। এখানকার অর্থনীতি মূলত হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিট, রাসায়নিক কারখানা, সার উৎপাদন কেন্দ্র, এলপিজি টার্মিনাল ও সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক্সের উপর নির্ভরশীল। এখানে বিপুল স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়। বঙ্গোপসাগর উপকূলে এর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে এখানে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের একটি ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পকেন্দ্রকে ঘিরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হোটেল ও বাজার গড়ে উঠেছে। সড়ক, রেল ও জলপথ—তিন দিক থেকেই হলদিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী। সড়ক ও রেলপথে এটি জেলা সদর তমলুকের সঙ্গে যুক্ত। এর দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কলকাতা সড়কপথে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে। হলদিয়া–মেচেদা রেললাইন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক রেলপথ হলদিয়াকে হাওড়া ও বৃহত্তর উপনগর ও দূরপাল্লার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভিতরে সড়ক ও বাসপথে হলদিয়া নন্দীগ্রাম, তমলুক, মহিষাদল এবং আরও পূর্বে কাঁথি ও সমুদ্রতটবর্তী দিঘার সঙ্গে সংযুক্ত। হুগলি নদীর উপর নিয়মিত ফেরি পরিষেবা হলদিয়াকে নন্দীগ্রাম ও আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকার সঙ্গে যুক্ত করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সালে আসনটি জিতেছিল। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় লিড পেয়েছিল। তবে ২০২১ সালে বিজেপি বিধানসভা আসনটি জিতেছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে এখানে লিড ধরে রেখে। বাস্তবে লড়াইটি এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন দেখার ২০২৬ ভোটে পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়।
Swapan naskar
AITC
Kar paik manika
CPI(M)
Subrata ghorai
BSP
Narayan pramanik
SUCI
Nota
NOTA
Madhurima mandal
AITC
Pradip kumar bijali
BJP
Abhimanyu mondal
BHNP
Nota
NOTA
Utpal dalui
PDS
Narayan pramanik
SUCI