
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনার লক্ষ্যে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারদের সরাসরি মাঠে নেমে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার ও সোমবার দু'দিন ধরে পুলিশ কর্তাদের নিজেদের থানায় গিয়ে পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ৬টি মূল লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, হিংসা রোধ, ভোটারদের ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখা, প্রলোভন বন্ধ করা, ছাপ্পা ভোট ঠেকানো, বুথ দখল রোধ এবং তথ্যপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি প্রতিরোধ।
এই নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন পুলিশ কর্তারা। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ ভাঙড় এলাকায় থানা পরিদর্শন শুরু করেছেন। অন্যদিকে বিধাননগর পুলিশের কমিশনার মুরলীধর শর্মা বাগুইআটি থানা থেকে তাঁর পরিদর্শন অভিযান শুরু করেন। থানার আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার সংবেদনশীল ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে। ভোটারদের হাতে দেওয়া হচ্ছে থানার ফোন নম্বর, কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার অন্যান্য উপায়।
এছাড়াও, এবারের নির্বাচনে ‘নাকা চেকিং’ বা তল্লাশি আরও আগেভাগেই শুরু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও এতে অংশ নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে, ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ ক্যামেরার মাধ্যমে তল্লাশির লাইভ ফুটেজ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এবারের লক্ষ্য একটাই, একেবারে ‘হিংসামুক্ত নির্বাচন’। যাতে কোনও ভোটার নগদ অর্থ, মদ বা অন্য কোনও প্রলোভনের শিকার না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। অবৈধ লেনদেন ও সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।