Advertisement

West Bengal Election 2026: ধুত্তোর ইকো ফ্রেন্ডলি গাইডলাইন! দেওয়াল লিখনে ক্ষতিকর রংই চলছে দেদার

দেদার পারদ মিশ্রিত রং দিয়ে লেখা হচ্ছে দেওয়াল। যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে প্ল্যাস্টিকের ফ্লেক্স-ব্যানার। ইকো ফ্রেন্ডলি ইলেকশনের নিয়ম মানছেন না প্রার্থীরা। আশঙ্কায় পরিবেশবিদরা।

দেওয়াল লিখন দেওয়াল লিখন
রূপসা ঘোষাল
  • কলকাতা ,
  • 02 Apr 2026,
  • अपडेटेड 6:13 PM IST
  • পারদ মিশ্রিত রং দিয়ে দেওয়াল লিখন
  • ব্যবহার হচ্ছে প্ল্যাস্টিকের ফ্লেক্স-ব্যানার
  • ইকো ফ্রেন্ডলি ইলেকশনের নিয়ম মানছেন না প্রার্থীরা?

'ইকো ফ্রেন্ডলি' নির্বাচনের নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। অথচ ভোটের উত্তেজনায় কি আদৌ কারও মাথায় রয়েছে পরিবেশ রক্ষা করার ভাবনা? পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন থেকে শুরু করে লাউডস্পিকার-মাইকের জোরাল ব্যবহার কিংবা দেওয়ালে লিখনের কালি কি আদৌ পরিবেশ বান্ধব? ভোটের মরশুমে কী বলছে এ রাজ্যের AQI? 

ভোট এলেই দূষণ বাড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এ যেন প্রমাণিত সত্য হয়ে উঠেছে। মার্চের শেষ আর এপ্রিলের শুরুতে AQI রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার মাত্রা ঘোরাফেরা করছে Unhealthy থেকে Poor কোয়ালিটির মধ্যে (১০৯-১৬১)। তার সঙ্গেই রমরমিয়ে চলা ভোটের প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত গাড়ি। যা ছড়াচ্ছে বায়ুদূষণ। এই AQI-এর মাত্রা কি আদৌ রয়েছে প্রার্থীদের ভোটের প্রাচরের ইস্যুতে? ভোটের প্রার্থীরা যখন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন, তখন কি বলছেন পরিবেশ দূষণ কমাতে কী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের? 

জোরাল মাইক বা দেওয়াল লিখনে ব্যবহত রং নিয়ে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরাই। bangla.aajtak.in-কে পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী বলেন, 'ভোট একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। জনসংযোগ যতটা হয়, জনসচেতনতা ততটা হয় না। ইকো ফ্রেন্ডলি ইলেকশন হচ্ছে না। গ্রিন ক্যাম্পেনিং একেবারেই নেই। প্রচুর পরিমাণ গাড়ির ব্যবহার হচ্ছে ভোটের সময়ে। এতে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। এছাড়াও দেওয়াল লিখনে যে রঙের ব্যবহার হচ্ছে, তা পরিবেশ বান্ধব নয়।'

দেওয়াল লিখনের রঙে থাকছে ভারী ধাতব পদার্থ, বিশেষত পারদের মতো বিষাক্ত জিনিস। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই রং বৃষ্টির জলে ধুয়ে মাটিতে, নদী-নালাতে মিশছে। যা পরিবেশের ক্ষতি করছে। এছাড়াও যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে প্ল্যাস্টিক। এ সম্পর্কে স্বাতী নন্দী বলেন, 'অনিয়ন্ত্রিত প্ল্যাস্টিক এবং শব্দের ব্যবহার হচ্ছে ভোটের প্রচারে। AI-এর যুগে ডিজিটাল ক্যাম্পেনিং বাড়ানো উচিত। যাতে ফ্লেক্স, ব্যানারের ব্যবহার কমতে পারে। ফলে সমস্ত দলের প্রার্থীদের কাছে আমার আবেদন, এখনও ক্যাম্পেনিং, জনসংযোগের জন্য অনেকটা সময় বাকি। সেক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।' 

Advertisement

স্বাতী নন্দীর আরও বক্তব্য, 'আমরা ক্লাইমেট এমারজেন্সির দিকে যাচ্ছি। জনপ্রতিনিধিরা যদি এই বার্তা একটু সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেন এবং তাঁরা নিজেরাই পরিবেশ রক্ষার বার্তাবহক হন, তাহলে জনগণের মন জয় করার প্রচেষ্টাও অনেকটা মজবুত করতে পারবেন।'

ভোটের প্রচারে কারও হাতিয়ার উন্নয়ন, কেউ আবার তুলে ধরছেন বিপক্ষ দলের দুর্নীতি। কিন্তু, পরিবেশ রক্ষা বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন কি কোনও দলের প্রার্থী? নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে একজন প্রার্থী ভোটের প্রচারের জন্য খরচ করতে পারেন ৪০ লক্ষ টাকা। সেক্ষেত্রে কি পরিবেশ বান্ধব রং কিংবা দলীয় পতাকা-পোস্টার যত্রতত্র ফেলা না রাখার মতো উদ্যোগগুলি নিতে পারবেন না প্রার্থীরা? প্রশ্ন পরিবেশবিদদের। 

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের CPIM প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তিনি যথেচ্ছভাবে জলাজমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণকাজ এবং মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের ফলে আর্সেনিক ও ফ্লোরাইডের মতো মারাত্মক বিপদ যে ক্রমশ বাড়ছে, সে বিষয়ে প্রচারের ফাঁকে ভোটারদের সতর্ক করছেন। তাঁর মতে, ‘শহরের বাস্তুতন্ত্র কোনওভাবে নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।’ আর তাই একটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফে তাঁকে নির্বাচনের ‘গ্রিন অ্যাম্বাসাডার’  হিসেবেও সম্মানিত করা হয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement