
BJP vs TMC in West bengal: পশ্চিমবঙ্গে এর আগে বড় ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু এবার মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানেই বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।
৫৭টি আসন ভাগ্য নির্ধারণ করবে
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী তথ্য দেখাচ্ছে, এখানে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, প্রতিটি ভোট নিশ্চিত করতে সব দলই কঠোর পরিশ্রম করছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে, ৫৭টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল মাত্র ৮,০০০ ভোটের ব্যবধানে। এবারও সবার নজর সেই একই আসনগুলোর দিকে। এখানে সামান্য ভোটের পরিবর্তনই বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গতবার এই ৫৭টি আসনের মধ্যে ২৯টি টিএমসি এবং ২৮টি বিজেপির দখলে গিয়েছিল। এর মধ্যে ১৯টি আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩,০০০-এর কম। সেই ১৯টির মধ্যে ১২টি আসন বিজেপি এবং ৭টি টিএমসি পেয়েছিল। এর মানে হলো, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করেছিল।
দক্ষিণবঙ্গের আসন বেশি
অল্প ব্যবধানের ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিই দক্ষিণবঙ্গে। উত্তরবঙ্গে এমন আসন রয়েছে মাত্র ১০টি। দক্ষিণবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই বিজেপি এখানে আরও বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে। ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি কম ব্যবধানের আসনগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখাটা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কংগ্রেসও ময়দানে
তবে, কংগ্রেসও বিজেপি-বিরোধী কিছু ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারে। এতে টিএমসি-র সমস্যা আরও বাড়বে। হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) এবং আসাদুদ্দিন ওয়েইসীর AIMIM আগে জোট করেছিল, কিন্তু হুমায়ুনের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর AIMIM জোট ভেঙে দেয়। এতে টিএমসির ওপর কতটা প্রভাত পড়বে, তা দেখার বিষয়। যে আসনগুলিতে জয় বা পরাজয় কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়, সেখানে এই ছোট ছোট বিষয়গুলিও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অল্প ব্যবধানের আসনগুলি
পশ্চিমবঙ্গের গত বিধানসভা নির্বাচনে এমন বেশ কয়েকটি আসন ছিল, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক হাজার ভোটের। বিজেপি প্রার্থী বাঁকুড়া আসনে ১,৪৬৮ ভোটে জয়ী হন। কুলটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে বিজেপি প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ৬৭৯ ভোটে জয়লাভ করেন। টিএমসি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। কোচবিহারে এক রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। যেখানে বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক মাত্র ৫৭ ভোটে জয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই স্বল্প ব্যবধানের আসনগুলোকে হুমকি এবং সুযোগ উভয় হিসেবেই দেখছেন। বিজেপি এবং টিএমসি উভয়ই এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী। বিজেপি যেখানে সরকারবিরোধী মনোভাব এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয় তুলে ধরে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, সেখানে টিএমসিও আগ্রাসীভাবে নির্বাচনে লড়ছে। টিএমসি এই নির্বাচনকে পশ্চিমবঙ্গ বনাম কেন্দ্রের লড়াই হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসি ২১৩টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসন জিতেছিল।