
বাঁকুড়া এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে বারবার ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। এটা এমন এক কেন্দ্র যেখানে কোনও দলই নিশ্চিন্ত নয়। তাই ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এখানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। বাঁকুড়া একটি জেলা সদর শহর। এটি জেনারেল শ্রেণিভুক্ত বিধানসভা কেন্দ্র। এটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়া পৌরসভা, বাঁকুড়া–১ ব্লক এবং বাঁকুড়া–২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ছিল প্রাচীন মল্লভূম রাজ্যের অংশ। সেই রাজ্যের শাসনকেন্দ্র ছিল বিষ্ণুপুর। মল্ল রাজারা টেরাকোটা মন্দির নির্মাণ ও কারুশিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
প্রতিষ্ঠার...
বাঁকুড়া এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে বারবার ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। এটা এমন এক কেন্দ্র যেখানে কোনও দলই নিশ্চিন্ত নয়। তাই ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এখানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। বাঁকুড়া একটি জেলা সদর শহর। এটি জেনারেল শ্রেণিভুক্ত বিধানসভা কেন্দ্র। এটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়া পৌরসভা, বাঁকুড়া–১ ব্লক এবং বাঁকুড়া–২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ছিল প্রাচীন মল্লভূম রাজ্যের অংশ। সেই রাজ্যের শাসনকেন্দ্র ছিল বিষ্ণুপুর। মল্ল রাজারা টেরাকোটা মন্দির নির্মাণ ও কারুশিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঁকুড়াতে ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে ২০১২ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। ১৯৫৭ সালে এটি একটি যুগ্ম আসন (twin-seat constituency) ছিল। সিপিআই(এম) সর্বাধিক সাতবার এই আসন জিতেছে। এছাড়া কংগ্রেস পাঁচবার এবং তৃণমূল কংগ্রেস চারবার। অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচনটি জিতেছিল। তারপর বিজেপি ২০২১ সালে এখানে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পায়। তৃণমূল কংগ্রেসের কাশীনাথ মিশ্র ২০০১ সালে প্রথম এই আসন জিতেছিলেন। তিনি আবার ২০০৬ সালে সিপিআই(এম)-এর কাছে হেরে যান। কিন্তু ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর প্রতীপ মুখোপাধ্যায়কে ২৯,০৯০ ভোটে হারিয়ে পুনরায় আসনটি দখল করেন। তাঁর মৃত্যুর ফলে ২০১২ সালে উপনির্বাচন হয়। তৃণমূল তাঁর বিধবা স্ত্রী মিনতি মিশ্রকে প্রার্থী কর। তিনি সিপিআই(এম)-এর নীলাঞ্জন দাশগুপ্তকে ১৫,১৩৮ ভোটে হারিয়ে আসন ধরে রাখেন। কিন্তু ২০১৬ সালে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী শম্পা দারিপার কাছে মাত্র ১,০২৯ ভোটে হেরে যান।
২০২১ সালে আবার বিজেপির দিকে চলে যায় খেলা। সেই ভোটে নীলাদ্রি শেখর দানা তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৪৬৮ ভোটে পরাজিত করেন। লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বাঁকুড়া বিধানসভা অংশে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। ২০০৯ সালে কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ৬,৫৫৭ ভোটের লিড পায়। আবার ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির উপর ২১,৭৭০ ভোটে এগিয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালে বিজেপি বড় উত্থান ঘটিয়ে তৃণমূলকে ৪৬,৭৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়। আর সেই ধারা ছিল ২০২৪ সালেও। সেই ভোটেও বিজেপি এগিয়ে ছিল। যদিও ব্যবধান কমে ১৬,৩১২ ভোটে দাঁড়ায়।
২০২৪ সালে বাঁকুড়ায় নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৭৮,৯৯২। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,৬৯,২৮৯, ২০১৯ সালে ২,৫৬,৬৫৭, ২০১৬ সালে ২,৪৪,৪৮২ এবং ২০১১ সালে ২,১৫,০৩৭। এখানে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা (২৮.৬৯ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি। তফসিলি উপজাতি ভোটার ৩.৩২ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৭.৯০ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার (৫৬.২৭ শতাংশ) শহুরে ভোটারদের (৪৩.৭৩ শতাংশ) তুলনায় সামান্য বেশি। এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার বরাবরই ভাল। ২০১১ সালে ৮০.০৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.৪৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৯.৫৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮০.৮১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭.৭৪ শতাংশ ছিল ভোটদানের হার।
বাঁকুড়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের রাঢ় অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশ ছোটনাগপুর মালভূমির শেষ প্রান্তভাগ, আর পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে অপেক্ষাকৃত সমতল পলিমাটি অঞ্চল। এখানকার ভূমি সামান্য উঁচু-নিচু, ল্যাটেরাইট মালভূমি, শাল ও মিশ্র বনভূমির অংশ। নদী উপত্যকার আশপাশে উর্বর জমি রয়েছে। দামোদর নদী বাঁকুড়ার উত্তর সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী ও কংসাবতী নদী এবং তাদের উপনদী—যেমন গন্ধেশ্বরী ও কুমারী—এই অঞ্চলের ভিতর দিয়ে বা কাছাকাছি দিয়ে বয়ে গেছে।
বাঁকুড়ার অর্থনীতি কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার প্রধান ফসল ধান। পাশাপাশি তেলবীজ, আলু, শাকসবজি ও কিছু ডাল চাষ হয়। এই জেলা তার হস্তশিল্পের জন্যও বিখ্যাত, বিশেষ করে বাঁকুড়া ঘোড়া ও অন্যান্য টেরাকোটা শিল্পকর্ম, ধোকরা ধাতুশিল্প এবং বস্ত্রবয়ন। শহরটি একটি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। এখানে সরকারি দফতর, কলেজ, হাসপাতাল এবং ক্রমবর্ধমান পরিষেবা ক্ষেত্র রয়েছে।
সড়ক ও রেল, দুই পথেই বাঁকুড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। এটি বাঁকুড়া–মসাগ্রাম রেললাইনের উপর অবস্থিত এবং আদ্রা ও খড়গপুরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত, ফলে হাওড়া ও অন্যান্য বড় জংশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সড়কপথে বাঁকুড়া দুর্গাপুর ও আসানসোল থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৮০–৯০ কিলোমিটার দূরে, পশ্চিমে পুরুলিয়া থেকেও প্রায় একই দূরত্বে এবং পূর্বে কলকাতা থেকে মোটামুটি ১৪০–১৭০ কিলোমিটার দূরে। বিষ্ণুপুর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৪০–৫০ কিলোমিটার দূরে। পাশের জেলাগুলির শহর, যেমন পশ্চিম বর্ধমানের বর্ধমান, দুর্গাপুর ও আসানসোল, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ রাজ্য সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত।
পরপর দুটি লোকসভা নির্বাচনে লিড পাওয়ার মাধ্যমে বিজেপি কিছুটা লিডে রয়েছে। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের জয়ের ব্যবধান এতটাই কম ছিল যে ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক সময়ের প্রভাবশালী সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস জোটবদ্ধ হয়েও গত দুই নির্বাচনে ভোটের হার প্রায় ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তাই তাদের দিকে কারও খুব একটা নজর নেই। সব মিলিয়ে বাঁকুড়ায় সম্ভবত সরাসরি বিজেপি বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই দেখা যেতে পারে।
Sayantika banerjee
AITC
Radharani banerjee
INC
Nota
NOTA
Swadesh mandal
IND
Lina ghosh
SUCI
Sadhan chattaraj
BSP
Swapan kumar das
IND
Haripada mahato
IND
Sk. hasimuddin
IND
Hulu kshetrapal
BMUP
Baidyanath kisku
IND
Minati misra
AITC
Subhas kumar sarkar
BJP
Nota
NOTA
Swapan nag
SUCI
Lal mohan malla
BSP
Rabindra hansda
BMUP