
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে রামনবমীর মিছিলে তুমুল অশান্তির অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে। সূত্রের খবর, শুক্রবার রামনবমীর মিছিল শুরু হয়েছিল রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি মাঠ থেকে। মিছিল ফুলতলা মোড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা আক্রান্ত হয় বলে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিযোগ করেছেন।
মিছিলকে লক্ষ্য করে ছাদের ওপর থেকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। সেই সময় তাদের ১০-১২ জন কর্মী যারা মিছিলে অংশ-গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা আহত হন বলে অভিযোগ। তারপরে তাঁরা আবার সামনের দিকে এগোতে চেষ্টা করেন। রঘুনাথগঞ্জ শহরের ভিতর দিয়ে যখন যাওয়ার চেষ্টা করছেন তখন ফের আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ করা হয়। তারপরে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে, ইতিমধ্যে বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, অগ্নি-সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রঘুনাথগঞ্জের ফুলতলা এলাকা।
বিষয়টিতে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ লেখেন, 'এটাই সেই তথাকথিত ‘পরিবর্তন’, যা বিজেপি বাংলার মাটিতে চাপিয়ে দিতে চাইছে। নির্বাচনের ঘোষণা হতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, এসপি, জেলাশাসক, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এমনকি কলকাতা পুরনিগমের কমিশনারও। এত বড়সড় ও নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।'
অভিষেক আরও লেখন, 'এর পরবর্তী পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি করা হচ্ছে। এই প্রশাসনিক রদবদলের আড়ালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভীতি প্রদর্শন, অশান্তি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। কোথাও দোকানপাট ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসছে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, বাংলায় কোনও ‘বুলডোজার মডেল’ বা বাইরের হিংসার রাজনীতির প্রয়োজন নেই।'