
তিনি ছিলেন গতবারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে তিনি টিকিট না পাওয়ায় অবাক হয়েছিলেন প্রায় সকলেই। আর এবার নিজের দল তৃণমূলের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মনোজ তিওয়ারি। টিকিট পাচ্ছেন না বুঝতে পেরেই কি তবে দাঁড়াতে চাননি মনোজ? প্রশ্ন উঠছে তা নিয়ে।
হাওড়ার শিবপুর থেকে মনোজের পরিবর্তে এবার বালির বিধায়ক রানা চ্যাটার্জিকে প্রার্থী করেছে দিদির দল। এ বার প্রার্থী না হতে পারে নিয়ে অভিমান থেকে ক্ষোভ ঝরে পড়ল মনোজের গলায়। তৃণমূল প্রার্থী না করায় অন্য দলগুলির কাছে তার কাছে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন মনোজ তিওয়ারি।
মনোজ বলেন, অন্য দল থেকে অফার আছে। তবে এখনও কিছু ঠিক করিনি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।"গত বিধানভা ভোটে শিবপুর থেকে ৩২ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপির রথীন চক্রবর্তীকে হারিয়ে ছিলেন।
অভিমানী মনোজ আরও বলেন, খারাপ তো লাগবেই। পাঁচ বছর আগে একদিন প্র্যাকটিসের সময় অনেক মিসড কল দেখি। পরে ফোন করলে জানানো হয়, দিদি কথা বলতে চান। তখন যেভাবে বিরোধী নেতারা দিদিকে আক্রমণ করছিলেন, তা আমাকে আরও জেদি করে তোলে।"মনোজের গলায় অভিমানের সুরও স্পষ্ট। তাঁর কথায়, "আমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। রাজনীতিতে এসে মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। আমার এলাকার মানুষ জানেন, আমি কী কাজ করেছি।'
২০২১ সালে ব্যাটিং প্র্যাকটিশ করার সময় ১৩ তেকে ১৪টা মিসড কল দেখে পরে ফোন করেছিলেন। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলা শুনে চমকে গিয়েছিলেন। তারপরই রাজনীতিতে আচমকা যোগদান, এরপর বিধায়ক, আর ভোট জিতে রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও হয়ে যান। পুরোনো কথাও জানাতে ভুললেন না মনোজ।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল?
শিবপুরে কঠিন লড়াই। বিজেপি প্রার্থী করেছে রুদ্রনীল ঘোষকে। ২০২১-এর নির্বাচন জেতার পর, বারবার অরূপ রায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময় গোষ্ঠী দ্বন্দে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শাসক দলকে। প্রকাশ্যে হাতাহাতিও হয়েছে। ফলে ক্ষোভ বাড়ছিল। সে কারণেই তাঁকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের।