
কলকাতার ঠিক ওপারেই শিবপুর। হুগলি নদীর পারে অবস্থিত শহরে। হাওড়ার প্রাচীন জনপদ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে শিবপুরের। শহর হিসেবে শিবপুরের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে মূলত কলকাতার ‘যমজ শহর’ হিসেবে হাওড়ার উত্থান এবং ঔপনিবেশিক আমলের নানা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। এখানে রয়েছে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন)। যা ১৭৮৭ সালে ‘ক্যালকাটা বোটানিক গার্ডেন’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ উদ্যান। এ ছাড়াও শিবপুরে রয়েছে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (IIEST)। যার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে। এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং...
কলকাতার ঠিক ওপারেই শিবপুর। হুগলি নদীর পারে অবস্থিত শহরে। হাওড়ার প্রাচীন জনপদ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে শিবপুরের। শহর হিসেবে শিবপুরের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে মূলত কলকাতার ‘যমজ শহর’ হিসেবে হাওড়ার উত্থান এবং ঔপনিবেশিক আমলের নানা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। এখানে রয়েছে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন)। যা ১৭৮৭ সালে ‘ক্যালকাটা বোটানিক গার্ডেন’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ উদ্যান। এ ছাড়াও শিবপুরে রয়েছে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (IIEST)। যার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে। এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শিবপুর। হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। বর্তমানে হাওড়া পুরনিগমের ৮, ৯, ২১, ২২, ২৩, ৪৩, ৪৭, ৪৮, ৪৯ এবং ৫০- এই ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও পর্যন্ত শিবপুর মোট ১৪টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এই কেন্দ্রে শুরুতে কংগ্রেসের আধিপত্য ছিল। পরে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক লড়াই দিত। তবে সে সব আজ অতীত। ফরওয়ার্ড ব্লক এখন অস্তিত্বহীন। এখন শিবপুর তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ। যা ভেদ করা বিরোধীদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরুর দিকে ফরওয়ার্ড ব্লক এবং কংগ্রেসের মধ্যে হাতবদল হয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক এখানে মোট পাঁচবার জিতেছে। চারবার করে জিতেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল। অন্যদিকে সিপিএম একবার এই আসনটি দখল করেছিল। জটু লাহিড়ী এই কেন্দ্রের পাঁচবারের বিধায়ক। দু’বার কংগ্রেস, তিনবার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জিতেছিলেন। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জেতার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দলে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে এখানে খাতা খুলতে সাহায্য করেন। ২০০৬ সালে হারলেও পরবর্তী দু’টি নির্বাচনে আবারও তৃণমূলের হয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।২০১১ সালে ২০০৬ সালের ‘বিজয়ী’ ফরওয়ার্ড ব্লকের ডঃ জগন্নাথ ভট্টাচার্যকে ৪৬,৪০৪ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে জয়ের ব্যবধান কমে হয়েছিল ২৭,০১৪। ২০২১ সালে জটু লাহিড়ীর এই দীর্ঘ ইনিংসের যবনিকা পতন ঘটে। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় তাঁর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত মেলে। তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। তৃণমূল প্রার্থী করে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে। বিজেপির রথীন চক্রবর্তীকে ৩২,৬০৩ ভোটে হারান।
শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য লোকসভা নির্বাচনের ফলেও প্রতিফলিত। ২০০৯ সালে সিপিএমের থেকে ২৮,৪১৬ ভোটে, ২০১৪ সালে ৩৮,২০৭ ভোটে এগিয়ে ছিল ঘাসফুল শিবির। এরপর বামেদের সরিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। ২০১৯ সালে তৃণমূল বিজেপির থেকে ৮,৭১১ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ১৪,২০৬ ভোটে এগিয়ে ছিল।
২০২৫ সালের পর শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআর খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০৫,৩৮০। ২০২৪ সালের ২,৩৮,০৬১ থেকে একধাক্কায় ৩২,৬৫১ জন কমেছে। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিবপুরে মুসলিম ভোটার নগণ্য। এর আগে ২০২১ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৩৩,৬৭৬। ২০১৯ সালে ২,২১,৭২২, ২০১৬ সালে ২,১৬,৯৮৮ এবং ২০১১ সালে ছিল ১,৯৭,৯৮৭ জন ভোটার। এই কেন্দ্রে মুসলিম এবং তফসিলি জনজাতির উপস্থিতি নামমাত্র। অন্যদিকে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটার মোট ভোটারের ৩.৯২ শতাংশ। পুরোপুরি শহুরে আসন। ২০১১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮২.২৯ শতাংশ। ২০১৬-তে ৭৮.৩৪ শতাংশ, ২০১৯-এ ৭৭.৩৯ শতাংশ, ২০২১-এ ৭৮.০২ শতাংশ এবং ২০২৪-এ ৭৪.১৪ শতাংশ।
এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি মূলত শিক্ষা, পরিষেবা, ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বাসিন্দাদের একাংশ স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস, পরিবহন এবং খুচরো ব্যবসায় নিযুক্ত। বেশিরভাগই চাকরি করেন কলকাতায়। সড়কপথ এবং গণপরিবহনের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত। বিদ্যাসাগর সেতু পার হলেই মধ্য কলকাতা। বাসে শিবপুর থেকে পার্ক স্ট্রিটে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
খসড়া ভোটার তালিকা অপরিবর্তিত থাকলে তা নির্বাচনী পাটিগণিতে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। গত তিনটি নির্বাচনে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক মহলের অনেকের ধারণা, ২০২১-এ মনোজ তিওয়ারির মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটার প্রার্থী না থাকলে লড়াই আরও হাড্ডাহাড্ডি হতে পারত। এর কিছুটা প্রতিফলন ২০১৯ এবং ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের প্রবণতায় মিলেছে। ২০২৪ সালে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। যা বিজেপির মতো দলের পক্ষে পেরোনো অসম্ভব নয়। কারণ ২০১৬ থেকে ২০২১-এর মধ্যে তাদের ভোটের হার বেড়েছে প্রায় ২৫%। ২০০৯ সাল থেকে টানা ৭টি নির্বাচনে জয়ের রেকর্ড নিয়ে তৃণমূল ২০২৬-এর লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে। তবু ভোটার সংখ্যা তৃণমূলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
Rathin chakrabarty
BJP
Jagannath bhattacharyya
AIFB
Nota
NOTA
Surojit das
IND
Rajib bhattacharya
IND
Kartick shil
SUCI
Anupam sarkar
IND
Pritam das
IND
Abhisek kumar chatterjee
IND
Arim roy
IND
Jagannath bhattacharyya
AIFB
Ramaprasad bhattacharya
BJP
Nota
NOTA
Brij lal prasad
BSP
Shyam sundar hazra
IND
Kartick shil
SUCI
Rajat bhatak
IND