পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা (Dia Mirza)। সোশ্যাল পোস্টে অভিনেত্রী নিজেই সেই কথা জানান সকলকে। তবে সন্তানের জন্ম হয় গত ১৪ মে। শারীরিক অসুস্থতা ও কিছু সমস্যার জেরে এতদিন সকলের সামনে এই সুখবর আনেননি তিনি। সকলের সঙ্গে ছেলের সঙ্গে একটি মিষ্টি মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়ে তাঁর একরত্তির নামও জানালেন নায়িকা।
গত ফেব্রুয়ারি বৈভব রেখির (Vaibhav Rekhi) সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন দিয়া মির্জা। বিয়ের দেড় মাসের ব্যবধানে গত ১ এপ্রিল সোস্যাল পোস্ট করে প্রেগন্যান্সির খবর জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এপ্রিল ফুলের দিন পোস্ট করায় ধন্দে ছিলেন বহু নেটিজেন। তাই দিয়ার পোস্টে বহু মানুষ শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিলেও আদপে খবরটা ঠিক কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন বহু মানুষ।
বুধবার দিয়া মির্জা ও বৈভব রেখির তরফে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে তাঁরা জানান, "আমাদের হৃদ স্পন্দন, আমাদের ছেলে অভ্যায়ন আজাদ রেখির গত ১৪ মে জন্ম হয়েছে। তাড়াতাড়ি ভূমিষ্ঠ হওয়ায় হাসপাতালের নবজাতক আইসিইউতে নার্স ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত যত্নে রয়েছে।"
"গর্ভাবস্থায় হঠাৎ অস্ত্রোপচার এবং এর পরে খুব মারাত্মক ব্যাকটেরি সংক্রমণের ফলে সেপসিস হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা থেকে প্রাণঘাতীও হতে পারতো। ধন্যবাদ, আমাদের চিকিৎসকেদের সময়োপযোগী যত্ন নিয়ে জরুরি সি-সেকশনের মাধ্যমে আমাদের শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করেছেন বলে।"
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, " অভ্যায়ন শীঘ্রই বাড়িতে আসবে এবং তাঁর দিদি সামায়রা এবং দাদু-ঠাকুমা ওকে কোলে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।"
সমস্ত ফ্যানেদের জন্য তাঁরা বলেন, "আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনুরাগীদের জন্য আমি বলতে চাই, আপনাদের উদ্বেগের বিষয় আমরা অবগত ছিলাম। যদি এই খবরটি আরও আগে শেয়ার করা সম্ভব হত, তবে আমরা তাই করতাম। আপনাদের সমস্ত ভালোবাসা, আলো, বিশ্বাস এবং প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ..."
গত এপ্রিল মাসে মালদ্বীপে হানিমুনের ছবি ও ভিডিয়ো দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় দিয়ার বেবি বাম্প। আর তাতেই নেতিবাচক মন্তব্য শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। যদিও নায়িকা তাতে থেমে থাকেননি। তিনিও মোক্ষম জবাব দিয়েছিলেন সে সব প্রশ্নের। বিয়ের আগে কেউ সন্তানসম্ভবা হলে আজও সমাজে তা ট্যাবু। অনেকই ব্যাকা চোখে দেখেন বিষয়টা। আর হবু মাকে সহ্য করতে হয় নানা কটূকথা, স্বীকার হতে হয় ট্রোলিংয়ের। বাদ যাননি দিয়া মির্জাও। তাঁর প্রেগন্যান্সির খবর শুনে যেমন খুশি হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন নেটাগরিকরা, তেমনই প্রশ্নবাণ ছুড়েছিলেন অনেকেই।
'রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে' খ্যাত অভিনেত্রী তখন উত্তর দেন, "প্রথমত শুধুমাত্র সন্তানসম্ভবা হওয়ার জন্য আমি বিয়ে করিনি। আমরা একসঙ্গে জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম। যখন সুখবরটি জানতে পারি, সে সময় আমরা বিয়ের প্ল্যানিং করছিলাম। বিয়ের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল ওই খবর। কিছু সমস্যা থাকার কারণে আমরা বিষয়টি আগে জানাইনি। আগে জটিলতাগুলি কাটাতে চেয়েছিলাম। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত মেলার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্ভাবস্থার খবরটি জানাই। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে বিয়েটা ফ্যাক্টর ছিল না।"
প্রসঙ্গত, ভ্যালেন্টাইন্স ডে-এর পরের দিন, ১৫ ফেব্রুয়ারি বয়ফ্রেন্ড, ব্যবসায়ী বৈভব রেখির সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন দিয়া মির্জা। এর আগে ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে সাহিল সংঘের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে তাঁদের বিচ্ছেদের কথা। অন্যদিকে প্রথম স্ত্রী সুনয়না রেখির সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর দিয়াকে বিয়ে করেন বৈভব। বান্দ্রাতে বসেছিল দিয়া- বৈভবের বিয়ের আসর। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন খুব কাছের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা। বৈদিক মতে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে, তাই কন্যাদান, কন্যা বিদায় হয়নি। বিয়েও দিয়েছিলেন একজন মহিলা পুরোহিত । এরপর সম্প্রতি মালদ্বীপে হানিমুনে যায় দিয়া-বৈভব। সঙ্গে ছিলেন বৈভবের প্রথম পক্ষের মেয়ে সামায়রাও।