
করোনা ভাইরাস যে ভাবে বাড়ছে, তাতে নিষ্কৃতি পেতে ভ্যাকসিনের দিকেই চেয়ে আছেন বহু মানুষ। কিন্তু পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় টিকাকরণ অতি ধীর গতিতে চলছে গোটা দেশে। প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পেতে দেরি হচ্ছে। টিকার দুটি ডোজের ব্যবধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকায় দ্বিতীয় ডোজের জন্য টিকা কেন্দ্র বা হাসপাতালগুলিতে লাইন দিচ্ছে মানুষ। এহেন পরিস্থিতিতে বহু জায়গায় অভিযোগ উঠছে, দুটি আলাদা টিকা দেওয়ার। অর্থাত্ প্রথম ডোজে যদি কোভ্যাক্সিন, তো দ্বিতীয় ডোজে কোভিশিল্ড হয়ে যাচ্ছে। এখন কারও যদি এই রকম মিশ্র ভ্যাকসিন শরীরে যায়, তা হলে কি বিপদ আছে?
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, মিশ্র ভ্যাকসিন নেওয়া ভাল নয়। Lancet মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, টিকার প্রথম ডোজের পরে যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, কম-বেশি তেমনই হবে দ্বিতীয় ডোজের পরে। তবে দুটি ভ্যাকসিনের মিশ্রণ শরীরে ঢুকলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ধরন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।
Lancet-এ প্রকাশিত ওই গবেষণাদলের অন্যতম সদস্য ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক ম্যাথিউ স্ন্যাপ CNN-কে জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ নেওয়ার পরে যে ধরনের উপসর্গগুলি দেখা যায়, দ্বিতীয় ডোজের পরেও সেরকমই উপসর্গ থাকে। তবে মিশ্র ভ্যাকসিন শরীরে গেলে কম থেকে মাঝারি উপসর্গ হতে পারে। তবে দ্রুতই তা ভাল হয়ে যায়।
অক্সফোর্ড সম্প্রতি মিশ্র ভ্যাকসিনের একটি ট্রায়াল করে। ৮৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপরে সেই ট্রায়াল চালানো হয়। তাঁদের প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও পরে ২৮ দিন পরে ফাইজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। দেখা যায়, যাঁদের মিশ্র ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যাঁদের একই ভ্যাকসিন দুটি ডোজে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের চেয়ে বেশি। ৩৪ শতাংশ জানান, জ্বর এসেছে।
৪১ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী, যাঁরা প্রথম ডোজ ফাইজার ভ্যাকসিন পেয়েছে, দ্বিতীয় ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকা পেয়েছে, তাঁদের যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, যাঁরা দুটি ডোজেই ফাইজার ভ্যাকসিন পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে খুব বিশেষ পার্থক্য নেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়।
বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই দেখা গিয়েছে, টিকা নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরে হচ্ছে। তবে কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্ন্যাপের কথায়, 'তবে মিশ্র ভ্যাকসিনে ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বাড়ছে, বা আদৌ ইমিউনিটি বাড়ছে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। গবেষণা চলছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জানানো যাবে।'
তবে এ ক্ষেত্রে একই বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দুটি ডোজে আলাদা ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়কে শিলমোহর দেয়নি বা কোনও গাইডলাইনও দেয়নি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, মার্কিন সেন্ট্রার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা ভারতে ICMR। ফলে সে ক্ষেত্রে দুটি ডোজে মিশ্র ভ্যাকসিন নেওয়া সেফ নয়।