বিজ্ঞানীদের মতে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হল, 'এল নিনো'। যা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তার নেপথ্যে রয়েছে এক নতুন ও অপ্রত্যাশিত কারণ।
আমেরিকার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস স্কুল অফ এনভায়রনমেন্টের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, সমুদ্রের জলের লবণাক্ততা এল নিনোর তীব্রতাকে উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে লবণাক্ততা এল নিনো তীব্রতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। চরম মাত্রার এল নিনো ঘটার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হতে পারে।
এল নিনো একটি পুনরাবৃত্তি জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনা যা ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
ঐতিহাসিক ভাবে এল নিনো বছরের অন্তত অর্ধেক সময়েই ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে। শক্তিশালী ওই এল নিনো বছরে দেশের কোথাও না কোথাও খরার সম্ভাবনা প্রায় ৬০% শতাংশ।
ভারত ঘন ঘন তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘ শুষ্ক গ্রীষ্মের মুখোমুখি হয়। অনিয়মিত আবহাওয়া জলের সঙ্কট বাড়াবে এবং কৃষিতে স্থায়ী প্রভাব পড়বে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য একটি এল নিনোর ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর এল নিনোর প্রভাব পড়বেয
ভারতের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য আরও নির্ভুল ও আগাম পূর্বাভাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়।
সুপার এল নিনো হলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা দেখা দিতে পারে।
২০২৬ যে নিশ্চিতভাবেই সুপার এল নিনো হবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের সাব-সারফেস তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনই ঠিক করে দেবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।