শিল্পবিপ্লবের সময়ের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব এই সীমা নির্ধারণ করেছিল। লক্ষ্য ছিল, তাপমাত্রা যদি এই সীমার মধ্যে রাখা যায়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলো এড়ানো সম্ভব হবে।
কিন্তু তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রার থেকে বেড়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এমন ক্ষতির মুখে পড়বে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
২০২৪ সাল পৃথিবীর ইতিহাসে ছিল সবচেয়ে উষ্ণ বছর। ওই বছর বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের সময়ের তুলনায় ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
২০২৪ সাল ছিল ভয়ঙ্কর, ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩১৪ দিনই কোনও না কোনও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। হয় তাপপ্রবাহ, নয় বন্যা, নয় ঘূর্ণিঝড় কিংবা খরা।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি মাত্র বছরে এমন তাপমাত্রার অর্থ এই নয় যে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য বেঙে গিয়েছে। কারণ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা সাধারণত কয়েক দশকের গড় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
২০২৪ সালে দিল্লির তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহ ৩ সপ্তাহ আগেই শুরু হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি বিশ্ব উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, তবে ২১০০ সালের মধ্যে ভারতে উষ্ণ আবহাওয়ার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ১৫ লক্ষের বেশি হতে পারে। যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ বেশি।
১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বেড়ে গেলে বর্ষা প্রায় ৭ দিন আগে শুরু হবে। কিন্তু বৃষ্টি হবে অনিয়মিত। ফলে একদিকে খরা, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা বাড়বে।
১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় ২১০০ সালের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ গলে যাবে। তাৎক্ষণিক বিপদ হলো গ্লেশিয়ার লেক বিস্ফোরণ।
২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় অর্ধেক মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রায় ৫ কোটি মানুষ আবার দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।