পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৮০তম বর্ষের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের দিকে নজর ছিল সকলেরই। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ২০৪৭ সালের দিকে এগোনোর পথে দেশের সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ—দু’টি দিকই তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের ভাষণে সাত দফার ‘সপ্তধারা’ সংস্কার কাঠামো থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল 'দিমাগি নকশাল' শব্দটি। এছড়া ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উপর জোর দিয়ে সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং শক্তি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর টানা ১৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। জওহরলাল নেহরুর পর তিনিই দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি এই মাইলস্টোনে ছুঁলেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রায় ৭৫ মিনিটের ভাষণে দেশের যুবসমাজ ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। Gen Z-কে লক্ষ্য করে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যে অন্যতম হল এক কোটি যুবক-যুবতীকে AI-এর দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং চালু করা।
লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজই আমাদের বিকশিত ভারতের দিকে নিয়ে যাবে।’ দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হওয়ায় ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে Gen Z ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভোটার গোষ্ঠী হয়ে উঠবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার নতুন কাঠামো হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সাত দফার ‘সপ্তধারা’ রোডম্যাপ তুলে ধরেন। প্রাচীন ‘সপ্তসিন্ধু’ বা সাতটি নদীর উল্লেখের সঙ্গে এর তুলনা করেন তিনি।
ক) উৎপাদন শক্তি, খ) কৃষি ও খাদ্য, গ) প্রযুক্তি ও উদ্ভাব, ঘ) গতি শক্তি, ঙ) প্রতিরক্ষা শক্তি, চ) শক্তি নিরাপত্তা,
ছ) সফট পাওয়ার।
দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন শত্রুর বিষয়ে সতর্ক করেন—‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল মানসিকতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অস্ত্র হাতে নকশাল আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল, তাদের নির্মূল করা হয়েছে। কিন্তু ‘দিমাগি নকশাল’রা ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কৃতিত্ব নিজেদের নিতে পারেন, কিন্তু মা-বোনেদের প্রাপ্য অধিকার দিন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু দেশ সম্পদ এবং কৌশলগত সমুদ্রপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরান যুদ্ধের তুঙ্গে থাকা অস্থির সময়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আত্মনির্ভরতা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ভারতকে পেট্রোল, ডিজেল বা LPG-র ঘাটতির মুখে পড়া থেকে রক্ষা করেছে।
২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা ফের তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য দেশজুড়ে প্রতিভা অনুসন্ধান অভিযান চালানোর ঘোষণা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত প্রতিভাবানদের বিশ্বমানের অ্যাথলিট হয়ে ওঠার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠবে।
সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে সংস্কারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।