JPSC ও JSSC পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ। সোমবার রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। রবিবার সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হলেও সমাধানসূত্র মেলেনি।
সকাল ১০টার আগেই পুরনো বিধানসভার কাছে জমায়েত শুরু করেন পড়ুয়ারা। সেখান থেকেই নতুন বিধানসভার দিকে মিছিল শুরু হয়।
বিধানসভা ঘেরাওয়ের কথা মাথায় রেখে রাঁচিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। দুই হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিধানসভার দিকে এগোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পড়ুয়াদের আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড টপকে সামনে এগিয়ে যান।
বিধানসভা চত্বরে মোট সাতটি ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা তার মধ্যে ছ’টি ভেঙে ফেলেন।
ছ’টি ব্যারিকেড পেরিয়ে শেষ ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছে যান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন পুলিশ আরও কড়া পদক্ষেপ করে।
শেষ ব্যারিকেডের কাছে পৌঁছতেই আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান চালায় পুলিশ। তার মধ্যেও আন্দোলনকারীদের অনেকে সরে যাননি।
জলকামান চলার পরও কয়েক জন পড়ুয়াকে জলের মধ্যে নাচতে দেখা যায়। তাঁরা আরও জল ছোড়ার চ্যালেঞ্জ করতে থাকেন।
দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র মাহাতো অসুস্থ অবস্থাতেও মিছিলে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে আসা হয়।
দেবেন্দ্র মাহাতোকে প্রথমে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিধানসভার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন।
আন্দোলনে এক পড়ুয়া হাতে গোলাপ নিয়ে হাজির হন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে এই ফুল দিতে চান তিনি।
JPSC ও JSSC পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাজনীতিবিদদের একাংশও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেন। তাঁদের মধ্যে বাবুলাল মরান্ডি এবং রাজ্যসভা সাংসদ আদিত্য সাহুও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। রবিবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক হয়। তবে সমাধান হয়নি। এরপরই পূর্বঘোষিত বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন পড়ুয়ারা।
বিকেল পর্যন্ত রাঁচির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা বজায় ছিল। পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। অন্য দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ।