
২০২৫ সালে ভয়াবহ বর্ষা দেখেছে দেশের বড় অংশ। বন্যা, ধস, অতিবৃষ্টিতে নাকাল হয়েছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গও ভয়াবহ বর্ষার শিকার হয়েছে। দার্জিলিং থেকে কলকাতা, তাণ্ডব চালিয়েছে বৃষ্টি। আবার এখন দেখা যাচ্ছে, কনকনে শীতের দাপট। ২০২৫-২৬ সালের শীতকাল যে চরম হতে পারে, আগেই bangla.aajtak.in এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, ২০২৫ সালের মতোই কি ভয়াবহ বর্ষা হতে পারে ২০২৬ সালে?
এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ২০২৬ সালে বর্ষায়
২০২৬ সালে কেমন গরম পড়তে পারে, তার পূর্বাভাস খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা। কয়েক দিন আমাদের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন। ২০২৬ সালে গ্রীষ্মের দাপট চরম ভাবাপন্ন হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। স্কাইমেট ওয়েদার সার্ভিস-এর কর্ণধার ও চেয়ারম্যান যতীন সিং-এর বক্তব্য, এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ২০২৬ সালে বর্ষায়। যার জেরে, বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
কেমন হতে পারে ২০২৬ সালে বর্ষা?
যদিও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর গতিবিধি নিয়ে এখন থেকেই পূর্বাভাস দেওয়া নিশ্চিত না-ও হতে পারে। কিন্তু CNBC TV18-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে স্কাইমেট ওয়েদার সার্ভিসের চেয়ারম্যান যা বললেন, তাতে বর্ষার আগাম ইঙ্গিত মিলল। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক তথ্য ও জলবায়ু মডেলগুলি ইতিমধ্যেই এল নিনো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর অতীত বলছে, এল নিনো পরিস্থিতিতে সাধারণত বর্ষা দুর্বল করে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে তিনি বলেন, '২০২৬ সালের বর্ষা নিয়ে বিরাট কিছু প্রত্যাশা এখন থেকে না করাই ভাল। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে জানান, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।'
জুন মাসের মধ্যে বদলেও যেতে পারে
২০১২ সাল থেকে স্কাইমেট-এর পূর্বাভাসের রেকর্ডের ভিত্তিতে তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে ৮০ শতাংশ চান্স রয়েছে, বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। আবার একই সঙ্গে, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাসেসমেন্ট বা পর্যবেক্ষণ ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে বদলেও যেতে পারে। সেই বদজলের ৩০ শতাংশ চান্স রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্কাইমেট-এর চেয়ারম্যানের বক্তব্য, বর্ষার ক্ষেত্রে এল নিনো পরিস্থিতি অন্যতম ফ্যাক্টর। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ইতিবাচক IOD তৈরি হলে, এল নিনোর প্রভাবকে কিছুটা কাটিয়ে পরিস্থিতি উল্টে দিতে পারে। সেটা হলে, বর্ষা স্বাভাবিকই হতে পারে।
বস্তুত, গত ৫ বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বর্ষাই হয়েছে ভারতে। ২০১৮ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে।
এল নিনো আসলে কী?
এল নিনো (El Niño) হল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। সমুদ্রের জল অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তার প্রভাব পড়ে জলবায়ুতে। বিশেষ করে বর্ষার উপরে।
ডিসক্লেমার: এই পূর্বাভাস IMD-র নয়। স্কাইমেট একটি বেসরকারি আবহাওয়া এজেন্সি। ভারতে বর্ষা কেমন হতে পারে ২০২৬ সালে, তা নিয়ে IMD এখনও কোনও পূর্বাভাস দেয়নি।