
শুক্রবার ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং আমেরিকার বিদেশমন্ত্রীরা নয়াদিল্লিতে একটি কোয়াড বৈঠক (Quad Meet) করেছেন। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভরতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। বৈঠকে জয়শঙ্কর চিনের (China) প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে রাষ্ট্রসংঘে (United Nations) সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনও রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। জয়শঙ্কর বলেছেন যে কোয়াডের সদস্য দেশগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল রাষ্ট্রসংঘে কোনও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার প্রক্রিয়াটি রাজনীতিকরণ করা উচিত নয়।
পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার ক্ষেত্রে ভারত ও অন্য মিত্র দেশগুলির প্রস্তাবে বারেবারে বাধা দিয়েছে চিন। লস্কর-ই-তইবা জঙ্গি আবদুল রহমান মাক্কিকে গত বছর বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব এনেছিল ভারত। তবে চিন এতে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
কোয়াড গ্রুপটি মুক্ত হিন্দ-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সমর্থন করার পাশাপাশি একটি পাল্টা সন্ত্রাসবাদ কার্যকারী দল গঠনের ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য হবে সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করা। এই বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, 'আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে আজ আজ কী নতুন জিনিস উদ্ভূত হয়েছে, তবে আপনার বলা উচিত যে আমরা একটি পাল্টা সন্ত্রাসবাদ কার্যকারী দল গঠনে সম্মত হয়েছি। আমরা ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করব।' কোয়াড সভার পরে জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার নিন্দা করা হয়েছে। এই বিবৃতিতে ক্রস -বর্ডার সন্ত্রাসবাদ, মুম্বই হামলা এবং পাঠানকোট হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আমরা প্রতিটি ফর্ম্যাটে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থার সমালোচনা করি। আমরা সন্ত্রাসবাদীদের সহায়তার এবং তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়ারও নিন্দা করি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমরা মুম্বই হামলার নিন্দা করি, যেখানে সমস্ত কোয়াড দেশের নাগরিকরা মারা গিয়েছিলেন। আমরা ইউএনএসসি নিষেধাজ্ঞা কমিটির প্রচেষ্টা সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করি এবং ইউএনএসসি নিষেধাজ্ঞার কমিটিগুলির কার্যকারিতা আরও স্বচ্ছ এবং উদ্দেশ্যমূলক করার জন্য সমস্ত দেশের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।'