
যুদ্ধে শুধু প্রাণহানি হয় না! আরও হাজারো সমস্যা তৈরি করে। রাশিয়ার হামলার জেরে ইউক্রেন ছাড়ছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। রুশ গোলায় খারখিভে মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় ছাত্রের। জোরকদমে চলছে ভারতীয়দের উদ্ধারকাজ। সে দেশে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় ছাত্র ডাক্তারি পড়ছেন। পড়াশুনো বাকি রেখেই ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। ভারতে কি তাঁরা বাকি পঠনপাঠন সম্পূর্ণ করতে পারবেন?
ভারতে কি বাকি কোর্স?
বিদেশে মেডিক্যাল স্নাতকদের (FMG) জন্য ২০২১ সালে নির্দেশিকা জারি করেছিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন। সেই অনুযায়ী,এমবিবিএস কোর্সের মাঝপথে বিদেশি বিদ্যালয় থেকে এ দেশে কেউ ভর্তি বা স্থানান্তর হতে পারেন না। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, বিদেশে ও দেশে ডাক্তারি পড়ার মানদণ্ড ও প্রবেশিক্ষা পরীক্ষা আলাদা। বিদেশে ডাক্তারির কোর্স এবং প্রয়োজনীয় ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর ভারতে চিকিৎসা করতে পারেন পড়ুয়ারা।
অন্ধকারে ভবিষ্যৎ
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নির্দেশিকা বলছে, বিদেশে ডাক্তারি পড়ার পর অন্তত ১২ মাস ওই মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে হবে। তার পর দেশে ফিরে এখানেও ১২ মাসের শিক্ষানবিশি বাধ্যতামূলক। ইউক্রেনে ডাক্তারির পাঠ্যক্রম ৬ বছরের। তার পর দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ২ বছর শিক্ষানবিশি। সবমিলিয়ে ৮ বছর লেগে যায়। নির্দেশিকা এও বলছে, এমবিবিএস পড়ুয়াদের কোর্স শুরু হওয়ার ১০ বছরের মধ্যে মেডিক্যাল প্র্যাকটিসের জন্য আবেদন করতে হবে।
সেক্ষেত্রে ভারতে ডাক্তারির জন্য ২ বছরের উইন্ডো পাচ্ছেন বিদেশি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা। ইউক্রেন থেকে যে পড়ুয়ারা ফিরে এসেছেন তাঁরা ফের কবে সেখানে যোগ দিয়ে পঠনপাঠন সম্পূর্ণ করতে পারবেন, আদৌ পারবেন কিনা তা-ও স্পষ্ট নয়। ডাক্তারি পাঠ্যক্রম শুরু করার পর যদি ১০ বছর সময় লেগে যায় এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করতে তাহলে ভারতে ডাক্তারি করার অনুমতি পাবেন না তাঁরা।
উপায় কী?
ভারতের কোনও প্রতিষ্ঠানে বাকি কোর্স শেষ করার সুযোগ পাবেন না ইউক্রেন থেকে আসা পড়ুয়ারা। কারণ এমন কোনও নিয়ম নেই। জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। তবে আপাতত অন্ধকারে ইউক্রেন ফেরত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ।