
আপাতত স্থগিত থাকছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা। পুনর্নির্বাচন হবে আগামী ২১ মে। ফলপ্রকাশ ২৪ মে। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পরই আসরে নেমে পড়ে BJP। দলের সাংসদ তথা IT সেলের প্রধান অমিত মালব্য খোঁচা, 'ডায়মন্ড হারবার মডেল ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।' আর এতেই ফুঁসে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে বলেন, '১০ বার জন্ম নিলেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেল কালিমালিপ্ত করা সম্ভব হয়।' এখানেই শেষ নয় তিনি গোটা ভারত, এমনকী, দিল্লির কোনও 'বাবা'-কে এসে ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
অভিষেকের চ্যালেঞ্জ
জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে 'দালাল' বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, 'বাংলা বিরোধী গুজরাতি গ্যাং এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার ১০ বার জন্ম নিলেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে একটা আঁচড়ও কাটতে পারবেন না।' তাঁর সংযোজন, 'আপনার সর্বশক্তি নিয়ে আসুন। গোটা ভারতকে ফলতায় আসার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী, এমনকী, দিল্লির কোনও গডফাদারকে নিয়ে আসুন। বুকের পাটা থাকলে ফলতায় এসে লড়ুন।'
ফলতায় কেন পুনর্নির্বাচন?
গত ২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। তার মধ্যেই ছিল ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটও। যা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবেই পরিচিত। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান, অভিষেক ঘনিষ্ট নেতা।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা অভিযোগ উঠে আসে। কোথাও EVM-এ টেপ লাগানো, কোথায় গ্রামবাসীদের ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া আবার কোথাও ভয় দেখানোরও অভিযোগ ওঠে। ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথের পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে পথ অবরোধও করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশনের স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত সরেজমিনে স্ক্রুটিনি করে দেখে রিপোর্ট দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কমিশন জানায়, গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই আবার নতুন করে নির্বাচন হবে।
স্ক্যানারে জাহাঙ্গির
ভোটগ্রহণ পর্বের আগে থেকেই উত্তপ্ত ফলতা। সৌজন্যে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তাঁর সঙ্গে জাহাঙ্গির খানের কার্যত ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়ে যায়। জাহাঙ্গিরের লোকজনের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পেয়ে বারবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে অজয় পাল শর্মাকে। তাঁর বিরুদ্ধেও পাল্টা ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন জাহাঙ্গির। সব মিলিয়ে শিরোনামে থাকা ফলতায় ফের একবার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত উত্তপ্ত করে তুলেছে বাংলার নির্বাচনের শেষলগ্ন।