
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত ফলতা একটি ব্লক-স্তরের শহর হলেও চরিত্রে মূলত গ্রামীণ। সাধারণ শ্রেণির এই বিধানসভা কেন্দ্রটি একসময় ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। মাঝেমধ্যে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বর্তমানে এটি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে পরিণত হয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সবকটি, অর্থাৎ মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এই কেন্দ্রে সিপিআই(এম) আটবার জয় পেয়েছে, আর অবিভক্ত সিপিআই প্রথম নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫২ সালে জয়লাভ করেছিল। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস, দু’টি দলই চারবার করে এই আসনে জিতেছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মধ্যেই, ২০০১ সালে ফলতা দখল করে নেয়। সে বছর সিপিআই(এম)-কে মাত্র...
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত ফলতা একটি ব্লক-স্তরের শহর হলেও চরিত্রে মূলত গ্রামীণ। সাধারণ শ্রেণির এই বিধানসভা কেন্দ্রটি একসময় ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। মাঝেমধ্যে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বর্তমানে এটি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে পরিণত হয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সবকটি, অর্থাৎ মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এই কেন্দ্রে সিপিআই(এম) আটবার জয় পেয়েছে, আর অবিভক্ত সিপিআই প্রথম নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫২ সালে জয়লাভ করেছিল। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস, দু’টি দলই চারবার করে এই আসনে জিতেছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মধ্যেই, ২০০১ সালে ফলতা দখল করে নেয়। সে বছর সিপিআই(এম)-কে মাত্র ২,১৩৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পায় তৃণমূল। তবে ২০০৬ সালে পাল্টা লড়াইয়ে সিপিআই(এম) ১,৭৫৪ ভোটের ব্যবধানে আসনটি পুনরুদ্ধার করে।
২০১১ সালের নির্বাচনের পর থেকে অবশ্য ফলতায় আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তৃণমূলকে। ওই বছর তৃণমূল প্রার্থী তমোনাশ ঘোষ সিপিআই(এম)-এর অর্ধেন্দু শেখর বিন্দুকে ২৭,৬৭১ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘদিনের অল্প ব্যবধানের লড়াইয়ের ইতি টানেন। তিনি ২০১৬ সালেও জয় ধরে রাখেন, তখন তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ২৩,৫৮০ ভোট। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতায় তমোনাশ ঘোষের মৃত্যু হলে, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল শঙ্কর কুমার নস্করকে প্রার্থী করে। নস্কর বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন সিপিআই(এম) নেতা বিধান পারুইকে ৪০,৭৭৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনেও ফলতা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০০৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিত চারটি সংসদীয় নির্বাচনের প্রতিটিতেই তৃণমূল এই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। ২০০৯ সালে তারা সিপিআই(এম)-এর থেকে ২৫,৭৫২ ভোটে এবং ২০১৪ সালে ৮,৫০৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। বিজেপি ধীরে ধীরে সিপিআই(এম)-কে টপকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেও, তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। ২০১৯ সালে তৃণমূল বিজেপির থেকে ৪৩,৭৭৭ ভোটে এগিয়ে ছিল, আর ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১,৬৮,৩৭২ ভোটে। ভৌগোলিকভাবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ফলতা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ডায়মন্ড হারবার-২ ব্লকের ভাদুড়া হরিদাস ও কলাতলাহাট গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও কেন্দ্রটি ক্রমাগত বড় হয়েছে। ২০২৪ সালে ফলতায় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৪৫,৭৮২ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৩৬,৭৬৮, ২০১৯ সালে ২,২৫,৭৬৩, ২০১৬ সালে ২,১২,৩৪০ এবং ২০১১ সালে ১,৮২,৬০৫ জন। মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটার প্রায় ৩০.৩০ শতাংশ, যা এই কেন্দ্রে বৃহত্তম ভোটার গোষ্ঠী। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারের হার ২৫.৬৬ শতাংশ। অঞ্চলটি প্রধানত গ্রামীণ-৯২.০১ শতাংশ ভোটার গ্রামে বসবাস করেন, শহরাঞ্চলে থাকেন মাত্র ৭.৯৯ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের বহু কেন্দ্রে যেখানে ভোটদানের হার কমছে, সেখানে ফলতায় উল্টো ছবি দেখা যায়। ২০১১ সালে যেখানে ভোটদানের হার ছিল ৮৫.৬৫ শতাংশ, তা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮.৬৩ শতাংশে। ২০১৯ সালে ছিল ৮৬.৭৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৭.৮৪ শতাংশ।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও ফলতা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ-পূর্ব ভারতের একটি প্রাচীন জনবসতি হিসেবে পরিচিত এই এলাকা ১৭৫৬ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিশেষ গুরুত্ব পায়। তখন সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা আক্রমণ করলে, ইংরেজ বাসিন্দারা হুগলি নদী ধরে নেমে এসে ফলতার কাছে আশ্রয় নেয়। আজও এলাকায় প্রাথমিক ইউরোপীয় উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া যায়-একটি প্রাক্তন ডাচ দুর্গের স্থান এবং নদীতীরবর্তী নানা ধ্বংসাবশেষ সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। ভৌগোলিকভাবে ফলতা গঙ্গা ব-দ্বীপের অন্তর্গত হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। ভূখণ্ড নিচু এবং জোয়ার-ভাটার খাল ও খাঁড়ি দিয়ে বিভক্ত। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, মৎস্যচাষ এবং নদীকেন্দ্রিক ছোট বাণিজ্য এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
সাম্প্রতিক দশকে ফলতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) এবং হুগলি নদীর তীরবর্তী পরিকাঠামোর কারণে শিল্প ও পরিষেবা খাতে কিছুটা উন্নয়ন ঘটেছে। উৎপাদন ইউনিট, লজিস্টিকস এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবা এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরি করলেও, লবণাক্ত মাটি, সীমিত সেচ ও বন্যার ঝুঁকির মতো সমস্যা এখনও কৃষিকে একফসলি ও ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে ফলতা ডায়মন্ড হারবার রোড করিডোর দিয়ে সড়কপথে কলকাতা থেকে প্রায় ৫০-৫১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডায়মন্ড হারবার শহর ১৬-২০ কিলোমিটার, বজবজ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং আমতলা প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। নিকটতম শহরতলির রেল সংযোগ সাধারণত শিয়ালদহ-ডায়মন্ড হারবার লাইনের ডায়মন্ড হারবার স্টেশনের মাধ্যমে পাওয়া যায়, যা সড়কপথে প্রায় ১৮-২০ কিলোমিটার দূরে।
একটি পুরোনো নদীতীরবর্তী গ্রামীণ জনপদ, যার পাশে গড়ে উঠছে শিল্পাঞ্চল। এই বাস্তবতায় ফলতার রাজনৈতিক চিত্রও স্পষ্ট। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে এবং ২০০৯ সাল থেকে চারটি লোকসভা নির্বাচনেই এগিয়ে রয়েছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের প্রভাব ক্রমশ ক্ষীণ হয়েছে, বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এলেও এখনও তা তৃণমূলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি। এই প্রবণতা বজায় থাকলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র ধরে রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।
Bidhan parui
BJP
Abdur razzak molla
INC
M. raquibul hasan mallick
IND
Nota
NOTA
Julfikar shaik
IND
Santosh samanta
IND
Atal kumar purkait
BSP
Somnath mondal
IND
Milan dhum
IND
Deepak ram
IND
Bidhan parui
CPM
Amarendra nath mukherjee
BJP
Nota
NOTA
Mamata laskar
SUCI
Atal kumar purkait
BSP
Jayashri chakraborty
LJP
Haran chandra biswas
PDS