
ভোটগণনার আগের দিন সকালে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল শাখওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের সামনে। এটিই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। অভিযোগ, রবিবার সকালে এই স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যের রাস্তায় আচমকাই ২টি গাড়ি ঢুকে পড়ে। তার মধ্যে একটি গাড়িতে BJP-র পতাকা লাগানো ছিল। বাকি গাড়ি যখন চেকিং হচ্ছে তখন কেন পতাকা লাগানো সেই গাড়ি স্ট্রংরুমের কাছে যেতে দেওয়া হল? এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই গাড়ি থেকে নেমে সটান স্কুলের ভিতরে ঢুকে পড়েন কয়েকজন। যদিও নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন পুলিশের বক্তব্য, ওই গাড়িটিকে ১০০ মিটারের চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
শাখওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের সামনে লর্ড সিনহা রোডে এই মুহূর্তে কড়া নিরাপত্তা। মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত গাড়িই চেকিং করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সে সব গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লর্ড সিনহা রোড থেকে। ফলত BJP-র ফ্ল্যাগ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তৃণমূল কর্মীরা।
নওশাদ নামে এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'পুলিশ এখানে ঠিকঠাক কাজ করছে। কিন্তু যেখানে একটা সাইকেল ঢুকলেও চেকিং হচ্ছে সেখানে একটি স্করপিও, একটি ডিজায়ার গাড়ি ঢুকে পড়ল কীকরে? গাড়িতে আর্মি লেখা অথচ একটি BJP-র পতাকা লাগানো কেন? আমাদের আপত্তি সেখানেই।' আরও এক তৃণমূল কর্মীর প্রশ্ন, আর্মি লেখা সাদা স্করপিও গাড়িতে BJP-র পতাকা রয়েছে দেখেও কেন পুলিশ সেই গাড়ি আটকাল না?
উল্লেখ্য, এই ভবানীপুরের স্ট্রংরুমেই দ্বিতীয় দফা ভোটের পরদিন সন্ধ্যায় অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি EVM লুট হওয়ার আশঙ্কা করেছেন। সমস্ত তৃণমূল নেতা কর্মীদের EVM আগলানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে স্ট্রংরুমের কাছে হোটেল ভাড়া করে থাকতে বলেছেন তিনি। এদিকে, পরদিন সেখানে হাজির হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও।