
BJP meeting Kolkata May 2: ভোটের রেজাল্টের আগেই বড় মিটিংয়ে বসছে বঙ্গ বিজেপি। আগামী ২ মে কলকাতায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক গেরুয়া শিবিরের। কী নিয়ে আলোচনা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটগণনার প্রস্তুতি, বুথ ম্যানেজমেন্ট এবং নজরদারি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই মিটিংয়ে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধু রাজ্যের নেতারাই নন, নির্বাচনের সময় যাঁরা ভিনরাজ্য থেকে দায়িত্ব নিয়ে বাংলায় এসেছিলেন, তাঁদেরও এই বৈঠকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের পরও সংগঠনকে একসুতোয় বেঁধে রেখে সবদিক খতিয়ে দেখতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির কাছে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রচার, ভোটগ্রহণ শেষ হলেও আসল ভাগ্য নির্ধারণ ৪ মে। কোন বুথে কতটা নজরদারি প্রয়োজন, কোথায় এজেন্টদের আরও সক্রিয় হতে হবে, কীভাবে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা হবে; এই সমস্ত বিষয় নিয়েই বিশদ আলোচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি, কোনওরকম অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ মনিটরিং সেল তৈরির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, আপাতত এগজিট পোল নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। একাধিক সমীক্ষায় বিজেপির ভাল ফলের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে দলীয় নেতৃত্ব এখনই আত্মতুষ্ট হতে নারাজ। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বললেন, 'আমি সরকার চাইছি, মন্ত্রিত্ব নয়। আগে সরকার হোক। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সরকার পাল্টাতে চাইছে।'
অন্যদিকে, ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়েও চর্চা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই ঘিরে উত্তেজনা চরমে। ভোট শেষ হতেই শুভেন্দু দাবি করেছেন, একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকবে। তাঁর বক্তব্য, 'হিন্দু বুথে এবার ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা আগে দেখা যায়নি।' এমনকি তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বুথেও পিছিয়ে পড়তে পারেন।
শুভেন্দুর আরও দাবি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটার; গুজরাতি, মারোয়ারি, শিখ, উৎকল; সবাই বিপুল হারে বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, '৯৫ শতাংশ ভোট পদ্মফুলে পড়েছে, মানুষ ভয় কাটিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন।'
ভোট শেষ হলেও এখনও চরমে রাজনৈতিক লড়াই। ২ মে-র বৈঠককে সামনে রেখে আপাতত ‘কাউন্টিং ডে’-র প্রস্তুতিতে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির।