
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা শান্তিপূর্ণ রাখতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। কোনও প্রকার অশান্তি যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। একই কথা বলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও।
মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, "শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি বুথে একটি ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা আছে। বুথের ভেতরে যা কিছু ঘটছে, আমরা সবকিছু দেখতে পাচ্ছি। কাকে অনুমতি দিতে হবে সে বিষয়ে সিএপিএফ-কে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আমি নিজে বাইরে গিয়ে দেখব। এটি আপনার আইনগত অধিকার, অনুগ্রহ করে আপনার ক্ষমতা প্রয়োগ করুন।"
অন্যদিকে, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, "কিছু কন্টিনজেন্টের কাছে বডি ক্যামেরা থাকবে। প্রতিটি স্ট্রং রুম কমপ্লেক্স সিএপিএফ দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে এবং পাহারার মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বজায় থাকে। এর পাশাপাশি, স্ট্রং রুমে ঢোকার মুখে সিসিটিভি রেকর্ডিং হবে, যা প্রার্থী ও এজেন্টরা দেখতে পাবেন। প্রতিটি বুথে চারজন আধাসামরিক জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা প্রতিটি বুথে অন্তত দুটি ওয়েবক্যামের ব্যবস্থা করেছি। একটি ওয়েবক্যাম বুথের ভিতরে এবং অন্যটি বুথের বাইরে বসানো হয়েছে।"
উল্লেখ্য, আজ ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১৪২টি আসনের মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর। কলকাতার ১১টি আসন-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ভোট হচ্ছে। দুই দফার এই নির্বাচনে দ্বিতীয় দফাই মূলত ক্ষমতা দখলের চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে একাধিক ‘স্টার’ এবং হেভিওয়েট প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ইভিএমে বন্দি হবে। আজকের হট সিট রয়েছে ভবানীপুর। যেখানে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফলপ্রকাশ হবে ৪ মে। ওইদিনই জানা যাবে আগামী ৫ বছর কাদের হাতে থাকতে চলেছে রাজ্য শাসনের ব্যাটন।