
ভবানীপুরের কাউন্টিং সেন্টারে তাঁকে ‘শারীরিক নিগ্রহ’ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর রিপোর্ট অনুযায়ী এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি, এই ধরনের ঘটনা সত্যিই ঘটলে অভিযোগ বা FIR দায়ের হওয়ারও কথা ছিল বলে জানান।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে(WB Election 2026 Result) গেরুয়া ঝড়। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের আবহে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ভবানীপুরের কাউন্টিং সেন্টারের ভিতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, 'আমি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। যদি এমন কিছু ঘটত, তা হলে অভিযোগ বা FIR দায়ের করা হত। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি।'
এর আগে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গণনার প্রথম রাউন্ডের পর থেকেই বিজেপির সাপোর্টে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছিল। মমতার কথায়, 'প্রথম রাউন্ডের পর থেকেই বলা শুরু হয় বিজেপি ১৯৫-২০০ আসনে এগিয়ে। এখনও পাঁচ-ছ’ রাউন্ড বাকি ছিল। তার আগেই মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়ে যায়।'
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এর পরেই বিজেপি কর্মীরা কাউন্টিং স্টেশনের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করতে শুরু করে। 'আমি তখন প্রায় ৩০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম। এখনও পাঁচ রাউন্ড বাকি ছিল। আমরা আরও ৩২ হাজার ভোট পাওয়ার আশা করছিলাম,' দাবি তাঁর।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২০০ জন CRPF জওয়ান এবং বহিরাগতদের নিয়ে কাউন্টিং সেন্টারে ঢোকেন। 'ওরা আমাদের লোকজনকে মারধর করে। মহিলাদেরও ছাড়া হয়নি। 17C ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়,' বলেন তিনি।
তাঁর দাবি, খবর পেয়ে তিনি নিজে কাউন্টিং সেন্টারে যান। 'আমার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্য রাস্তা দিয়ে যাই। ভিতরে ঢুকতেই CRPF আমাকে বলে, যেতে দেওয়া হবে না। আমি বলি, আমি তো প্রার্থী,' বলেন মমতা।
তৃণমূল সুপ্রিমোর আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গণনা বন্ধ রাখার আবেদনও তিনি করেছিলেন। 'আমি RO-কে বলেছিলাম কাউন্টিং বন্ধ রাখতে। DEO-র সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি জানি, আগে তিনি কাউকে মেসেজ করেছিলেন; ‘কাউন্টিং মে খেল হবে’,' বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি।
মমতা বলেন, 'আমি কয়েক মিনিটের জন্য ভিতরে ঢুকেছিলাম। তখন আমাকে পেটে লাথি মারা হয়, পিছন থেকেও মারা হয়। আমাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়, নিগ্রহ করা হয়। সেই সময় CCTV বন্ধ ছিল।'
মমতার এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনের তরফেও ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে।