
দ্বিতীয় দফার ভোটের মাঝেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ইভিএম ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা অভিযোগ করেছেন, একাধিক বুথে ইভিএমে তাঁদের দলের প্রতীকের বোতামে সেলোটেপ লাগানো হয়েছে, যাতে ভোটাররা পদ্মফুলে ভোট দিতে না পারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ফলতা কেন্দ্রের ১৮৯ ও ১৯০ নম্বর বুথে এই কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বুথ পরিদর্শনে গেলে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট সেক্টর অফিসার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং সিসিটিভি-ও নাকি বন্ধ ছিল। তাঁর মতে, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার খর্ব করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই বুথ চত্বরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিজেপি প্রার্থী সেখানে পৌঁছতেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপি প্রার্থী সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছভাবেই চলছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট বুথের পোলিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিসিটিভি বন্ধ থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। কমিশন জানিয়েছে, যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।