
দ্বিতীয় দফার ভোট ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামীকাল, বুধবার ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফাতেই নির্ধারিত হবে বহু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
এই পর্যায়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা পড়া এসআইআর সংক্রান্ত আবেদনের পরিসংখ্যান বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। প্রায় ১২.৯ লক্ষ আবেদন জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ১,৪৬৮টি। খারিজ হয়েছে মাত্র ৬টি আবেদন। এর আগে প্রথম দফাতেও প্রায় ১৪ লক্ষ আবেদনের মধ্যে অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র ১৩৯টি। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় মোট ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬২৭ জন, মহিলা ভোটার ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৯২ জন। এছাড়া, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৬৮ জন নতুন ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোটদান করবেন।
এই দফায় মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্রটি সর্বাধিক ১৯ জন প্রার্থীর জন্য বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে হুগলির গোঘাট কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৫ জন প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন।
রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে এই ১৪২টি আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই দফায় কলকাতা-সহ একাধিক শহরাঞ্চল এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা রয়েছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথম দফায় উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পড়ার পর এখন সকলের নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। রাজনৈতিক দলগুলিও এই পর্বে সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার চালিয়েছে। অনেক কেন্দ্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার এই ভোট শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, এই দফার রায় কোন দিকে যায় এবং তা শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিকে কতটা বদলে দেয়।