
হুগলি জেলার একটি বিধানসভা আসন হল গোঘাট। এটি পুরোপুরি গ্রামীণ আসন। এই কেন্দ্রটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত। একটা সময় এটা ছিল বামফ্রন্টের গড়। যদিও বর্তমানে এই এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে গিয়েছে। হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় অবস্থিত গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়েছে গোঘাট–১ ও গোঘাট–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে। এটি আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কবে প্রতিষ্ঠা হয়? ১৯৫১ সালে গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। তবে ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি ডিলিট হয়ে যায়। আবার ১৯৬৭ সালে চালু হয়। এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক এই আসনটি জিতেছে ৯ বার। কংগ্রেস জিতেছে ...
হুগলি জেলার একটি বিধানসভা আসন হল গোঘাট। এটি পুরোপুরি গ্রামীণ আসন। এই কেন্দ্রটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত। একটা সময় এটা ছিল বামফ্রন্টের গড়। যদিও বর্তমানে এই এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে গিয়েছে। হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় অবস্থিত গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়েছে গোঘাট–১ ও গোঘাট–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে। এটি আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কবে প্রতিষ্ঠা হয়? ১৯৫১ সালে গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। তবে ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি ডিলিট হয়ে যায়। আবার ১৯৬৭ সালে চালু হয়। এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক এই আসনটি জিতেছে ৯ বার। কংগ্রেস জিতেছে ২ বার। এছাড়া একজন নির্দল প্রার্থী, জনতা পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রত্যেকেই একবার করে জয় পেয়েছে। পরিবর্তনের ২০১১ সালের ভোটেও ফরওয়ার্ড ব্লকের বিশ্বনাথ কারক গোঘাটে জয়ী হন। কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস মেদ্দাকে ৪,২৬৫ ভোটে হারিয়ে। এর মাধ্যমে ফরওয়ার্ড ব্লক টানা সপ্তমবারের মতো এই আসনে জয় পায়। যদিও খেলা ঘুরে যায় ২০১৬ সালে। তৃণমূল কংগ্রেসের মানস মজুমদার তৎকালীন বিধায়ক কারককে ৩০,৮৮৬ ভোটে পরাজিত করেন। বিজেপি ২০১১ সালে এখানে মাত্র ৪.৩৪ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৯.৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তবে ২০২১ সালে চমকে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়। ওই বছর ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিশ্বনাথ কারক তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ককে ৪,১৪৭ ভোটে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। শেষ তিনটি নির্বাচনে তিনটি ভিন্ন দলের জয় গোঘাটের রাজনীতিতে স্পষ্ট রদবদলের ইঙ্গিত দেয়। ২০২১ সালের বিধানসভা জয়ের পর লোকসভা নির্বাচনেও গোঘাট বিধানসভা অংশে বিজেপির পারফরম্যান্স সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে এখানে বিজেপির ভোটের হার ছিল ৬.২০ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ১১.৮৩ শতাংশ। কিন্তু ২০১৯ সালে তারা বড় উত্থান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর ৮,০৬৭ ভোটের লিড নেয়। ২০২৪ সালে সেই লিড সামান্য কমে ৫,৮৮৬ ভোটে দাঁড়ায়, তবু তৃণমূলই দ্বিতীয় স্থানে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য সর্বোচ্চ সাফল্য আসে ২০১৪ সালে, যখন তারা সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে ৪৫,৭৫৫ ভোটের লিড পায়, যেখানে ২০০৯ সালে তারা ওই দলটির থেকে ৬০,৭৪৩ ভোটে পিছিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে গোঘাটে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫৪,৪২০। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,৪৬,৫৭০, ২০১৯ সালে ২,৩৮,৬৯৪, ২০১৬ সালে ২,২৪,১৩৯ এবং ২০১১ সালে ১,৯৩,৪৫২। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটাররা মোট ভোটারের ৩৭.৩৮ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ৫.৩২ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১২.৫০ শতাংশ। এখানে ভোটদানের হার বরাবরই বেশি—২০১১ সালে ৯১.১৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৮.৫৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৬.৯১ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৯.০৩ শতাংশ। ভূগোলটা জেনে নিন গোঘাট–১ ব্লকটি হুগলি জেলার পশ্চিমাংশে অবস্থিত এবং পুরনো পলিমাটির অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দামোদর ও দ্বারকেশ্বর নদী এবং তাদের খাল দ্বারা পুষ্ট এই এলাকার জমি সমতল ও উর্বর। এখানে ধান, আলু, পাট, শাকসবজি ও ফলের নিবিড় চাষ হয়। এর ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত গোঘাট–২ ব্লকটি পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু জমির অংশ। ফলে এই ব্লকের কিছু অংশ তুলনামূলক উঁচু ও অসমতল, তবে চাষযোগ্য। দুই ব্লক মিলিয়ে গোঘাট একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। গোঘাটের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হল কৃষি। ধান প্রধান ফসল হলেও, হুগলির সমৃদ্ধ আলু উৎপাদনে এই অঞ্চলটির বড় ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি পাট, তেলবীজ, শাকসবজি ও ফলের চাষ হয়। আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলে একাধিক কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এখানকার জনসংখ্যার একটি অংশ কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে। অন্যরা ছোটখাটো ব্যবসা, পরিবহণ এবং আরামবাগ ও তারকেশ্বরের মতো নিকটবর্তী শহরে দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত। সড়ক ও রেলপথে গোঘাটের যোগাযোগ যথেষ্ট ভালো। গোঘাট–১ ব্লকের সদর দপ্তর জেলা সদর চুঁচুড়া থেকে সড়কপথে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে। নিকটবর্তী শহর ও মহকুমা সদর আরামবাগ প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। গোঘাট–আরামবাগ রেলপথে ট্রেনে যেতে সময় লাগে আনুমানিক ১১ থেকে ১৫ মিনিট; বাস ও শেয়ার গাড়িতেও প্রায় একই সময় লাগে। কলকাতা আরামবাগ ও জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ৮০–৯০ কিলোমিটার দূরে, সড়কপথে যেতে আড়াই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। তারকেশ্বর ও পুরশুরার মতো হুগলির অন্যান্য শহর ৩০–৪০ কিলোমিটারের মধ্যে, আর চন্দ্রকোনা ও ঘাটাল হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রবেশের দূরত্ব প্রায় ৪০–৬০ কিলোমিটার। গোঘাটে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ২০২১ সালে বিজেপি আসনটি দখল করলেও এবং শেষ দুই লোকসভা নির্বাচনে লিড নিলেও, সেই ব্যবধান ছিল মাত্র ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ ভোটের মধ্যে। আর এটাই চিন্তার। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসকে নজরে রাখতে হবে বামফ্রন্ট–কংগ্রেস জোটকে, যারা গত দুই নির্বাচনে সামান্য ছয় শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, কিন্তু তারা যদি ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে বিজেপির চেয়ে তৃণমূলের ক্ষতি বেশি করতে পারে। তবে এখনদেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।
Manas majumdar
AITC
Shiba prasad malick
AIFB
Nota
NOTA
Samir roy
BSP
Biswanath karak
AIFB
Basan ray
BJP
Nota
NOTA