
বিরাটিতে উত্তর দমদম কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হয়ে রোড শো করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচারের মাঝে আচমকাই দেখা যায় এক যুবকের বাইকে উঠে পড়েন তিনি। আর তাঁকে পিছনে বসিয়ে বাইক ছুটিয়ে বিরাটি মোড় থেকে বণিক মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যান। তারপরই রাতারাতি ভাইরাল হন ওই বাইক চালক, যাঁর সওয়ারী হয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই যুবকই এবার ভোটাধিকার পেলেন না। একাধিকবার আবেদন সত্ত্বেও আসেনি তাঁর ভোটার কার্ড। খোঁজ নিল bangla.aajtak.in.
ওই যুবকের নাম নবীন রাউত। ১৯ বছরের নবীন দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন শুনে সেদিন বন্ধুদের সঙ্গেই পৌঁছে গিয়েছিলেন উত্তর দমদমের বিরাটি এলাকায়। মমতা যখন রোড শো করছেন, রাস্তার ধারে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন নবীনও। আচমকাই নিরাপত্তারক্ষীরা প্রশ্ন করেন, 'কারও বাইক আছে? বাইক লাগবে ২ টো।' তারপরের ঘটনা নিজে মুখেই শেয়ার করেছেন নবীন।
যুবকের কথায়, 'প্রথমে বুঝতে পারিনি কার জন্য বাইক চাওয়া হচ্ছে। আমার এক বন্ধু নিজের বাইক আছে বলে জানায়। আমায় বলায়, আমি জানাই, আমার কাছে বাইক রয়েছে। বাইক নিয়ে যখন গেলাম, দেখলাম খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বাইকে উঠছেন। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারিনি, এমনটা হচ্ছে।' নবীন আরও বলেন, 'আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, সিএম ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করার। সেই স্বপ্ন যে এ ভাবে পূরণ হবে, ভাবতেই পারিনি।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কী কথা হল তাঁর? নবীন বললেন, 'আমার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, সেটা আগে প্রশ্ন করা হয়েছিল নিরাপত্তারক্ষীদের তরফে। বললাম, আছে তবে ডিজিলকারে, হাতে নেই। অত তাড়াহুড়োর মধ্যে হেলমেট পরারও সুযোগ হয়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় যেতে যেতেই বললেন, সাবধানে বাইক চালিও। হেলমেট মাস্ট।' এ ছাড়াও নবীন কতদূর পড়াশোনা করেছেন, বাড়িতে কে কে আছেন, তা-ও মমতা জিজ্ঞেস করেন। ১৫-২০ মিনিট বাইক চালান নবীন। ২২ কিলোমিটারের বেশি স্পিড তোলেননি। তাঁর মনে হয়েছে, কমফর্টেবলিই তাঁর বাইকের পিছনে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবীন রাউত স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে IGNOU থেকে পড়াশোনা করছেন। বাবা ইন্ডিগোতে গ্রাউন্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করেন। বাড়িতে মা-বাবা ছাড়াও রয়েছেন দিদা, এক বোন ও এক ভাই। তবে একাধিক জায়গায় চেষ্টা করেও চাকরি পাননি এখনও। তিনি বলেন, 'বাড়ি থেকে চাকরির চাপ দেয়নি ঠিকই, তবে এখন একটা ইন্টার্নশিপ অন্তত করতে পারলে ভাল হতো। পাইনি, চেষ্টা করেছি।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাইকে বসিয়ে 'ফ্যান বয়' মোমেন্ট হয় নবীনের। ১৯ বছরের এই যুবক চান মমতাই আবার ক্ষমতায় আসুক। তাঁর কথায়, 'আমাদের দক্ষিণ দমদমে রাস্তাঘাট, আলো, সবকিছুই ভাল কাজ হয়েছে। ব্রাত্য বসু অনেক কাজ করেন। উনিই জিতবেন। অত রাজনীতি বুঝি না হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মনে হচ্ছে।' এইবারই প্রথমবার ভোট দেওয়ার কথা ছিল নবীনের। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ভোটার কার্ডটাই হাতে পাননি তিনি।
নবীন বলেন, 'অনলাইনে ফর্ম ৬ ফিলআপ করে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমার কাছে ভেরিফিকেশনের ডাকই আসেনি। BLO জানিয়েছিলেন, ফোন আসবে। কিন্তু আসেনি। তাই ভোটই দিতে পারব না। আর ভোটার কার্ড হল না বলে যুবসাথীর জন্য আবেদনটাই করতে পারলাম না।' ফলে মমতাকে পছন্দ করলেও প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হল না ছাব্বিশের নির্বাচনে। তবে মমতাকে বাইকে বসিয়ে আপ্লুত তিনি।