
ব্রিটিশ আমলে এই এলাকা ছিল মূলত ইংরেজ সেনার ঘাঁটি। একেবারে ফাঁকা। শহর থেকে দূরে। কলকাতার ইতিহাস বলছে, এখানে ব্রিটিশ সেনা কামান সহ নানা অস্ত্রের মহড়া চালাত। তাই দুম দুম করে মাঝে মধ্যেই আওয়াজ পাওয়া যেত। কলকাতার মূল অংশ থেকে দূরে সেনা ছাউনিতে কামানের সেই আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকে জায়গাটির নাম দিয়েছিল, 'দম দমা'। সেই থেকেই পরে এলাকাটির নামই হয়ে যায়, দমদম। দমদমে তৃণমূলের উত্থান বর্তমানে কলকাতা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দমদম। এখানেই রয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে পড়লেও, কলকাতার হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবেই ধরা হয়। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় দমদম বিধানসভা। দমদম পুরসভা ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড প...
ব্রিটিশ আমলে এই এলাকা ছিল মূলত ইংরেজ সেনার ঘাঁটি। একেবারে ফাঁকা। শহর থেকে দূরে। কলকাতার ইতিহাস বলছে, এখানে ব্রিটিশ সেনা কামান সহ নানা অস্ত্রের মহড়া চালাত। তাই দুম দুম করে মাঝে মধ্যেই আওয়াজ পাওয়া যেত। কলকাতার মূল অংশ থেকে দূরে সেনা ছাউনিতে কামানের সেই আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকে জায়গাটির নাম দিয়েছিল, 'দম দমা'। সেই থেকেই পরে এলাকাটির নামই হয়ে যায়, দমদম। দমদমে তৃণমূলের উত্থান বর্তমানে কলকাতা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দমদম। এখানেই রয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে পড়লেও, কলকাতার হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবেই ধরা হয়। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় দমদম বিধানসভা। দমদম পুরসভা ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত, সব মিলিয়ে দমদম বিধানসভা। এই বিধানসভা কেন্দ্র বামেদের শক্তিঘাঁটি ছিল। টানা ৯ বার জিতেছিল সিপিএম। দুবার জিতেছে কংগ্রেস ও একবার জিতেছিল প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি। তৃণমূল কংগ্রেস ৪ বার জিতেছে। এই আসনে প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেসের ডেবিউ হয় ২০০১ সালে। ১৯৯৮ সালে একটি পার্টির জন্ম, তারপরেই ২০০১ সালে বামেদের একেবারে শক্তঘাঁটি দমদম বিধানসভা জয় করা, মুখের কথা ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমাতেই ঘটেছিল। তারপর থেকে টানা জিতেছে। ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হন নাট্যকার, অধ্যাপক ও অভিনেতা ব্রাত্য বসু। সেই ব্রাত্য বর্তমানে মমতার মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। পশ্চিমঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী। ২০১১ সাল থেকে হারেননি ব্রাত্য ২০১১ সালে সিপিএম-এর হেভিওয়েট প্রার্থী গৌতম দেবকে ৩১ হাজার ৪৯৭ ভোটে হারিয়ে দমদমে জয়ী হন ব্রাত্য। ২০১৬ সালে অবশ্য সিপিএম কামব্যাক করার চেষ্টা করে। ব্রাত্য সে বারও জিতেছিলেন, তবে সিপিএম প্রার্থী পলাশ দাসের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র ৯ হাজার ৩১৬ ভোটের। ২০২১ সালে ফের জয়। বিজেপির বিমল শঙ্করকে ২৬ হাজার ৭৩১ ভোটে হারান ব্রাত্য। দমদম কেন্দ্রে ভোটব্যাঙ্কের জনবিন্যাস ২০০৯ সাল থেকে দমদমে টানা চারটি লোকসভা এবং তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ২০১৯ সালের ভোটের পর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সিপিএমকে পিছনে ফেলে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দমদমে তৃণমূল মাত্র ৫ হাজার ১১২ ভোটে (২.৯%) লিড ছিল বিজেপির থেকে। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বাড়ে, তৃণমূল এগোয় ৯,৫৯১ ভোটে (৫.১০%)। ২০২৪ সালে দমদম বিধানসভায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৪৬, যা ২০২১ সালের ২,৪৭,৮৫৮ এবং ২০১৯ সালের ২,৩২,৫৪৫ থেকে বেশি। এখানে তফসিলি জাতি ভোটার সবচেয়ে বড় অংশ, ১২.৭২%। মুসলিম ভোটার সংখ্যা খুবই কম। শহুরে কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ভোটদানের হার প্রতি নির্বাচনে কমেছে, ২০১১ সালে ছিল ৮০.৮৩%, ২০১৬-তে ৭৯.১৩%, ২০১৯-এ ৭৭.৪৬%, এবং ২০২১-এ নেমে হয় ৭৪.৭৫%। বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ভিড় ব্রিটিশ আমলে এখানে ক্যান্টনমেন্ট ও অস্ত্র কারখানা গড়ে ওঠে, যা আজও দমদমে একাধিক অস্ত্র তৈরির ফ্যাক্টরি হিসেবে চালু রয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বিপুল উদ্বাস্তু এসে দমদমকে দ্রুত জনবহুল করে তোলে। কারণ দমদম থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত খুব কাছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যশোর পর্যন্ত রাস্তাও রয়েছে, যা যশোর রোড নামে পরিচিত। দমদমের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্দান্ত আজকের দমদম কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মতিঝিল, নাগেরবাজার, রাজবাড়ির মতো সুপরিকল্পিত আবাসিক অঞ্চল রয়েছে। এই এলাকায় রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কলকাতা মেট্রোর উত্তর প্রান্তের টার্মিনাস দমদম মেট্রো স্টেশন, এবং যশোর রোড, দমদম সেন্ট্রাল জেল ও ঐতিহাসিক রেল স্টেশনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক। হাওড়া স্টেশন দমদম থেকে প্রায় ১৪ কিমি, শিয়ালদা ১১ কিমি, পার্কস্ট্রিট ১৪ কিমি, এবং সল্ট লেক সেক্টর–V প্রায় ১২ কিমি দূরে। তাই যোগাযোগ এই এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি, রেল, সড়ক ও মেট্রো মিলিয়ে কলকাতার যে কোনও অংশে খুব দ্রুত যাতায়াত সম্ভব।
Bimalshankar nanda
BJP
Palash das
CPI(M)
Nota
NOTA
Subrata kr. majumder
BSP
Rupa sarkar
IND
Rana pal choudhury
BNARP
Shree raju ghosh
IND
Subrata sen
IND
Palash das
CPM
Uma singha
BJP
Nota
NOTA
Subrata kumar majumder
BSP
Subrata sen
IND