
বাংলার নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে বুধবার সকালে ইতিমধ্যেই দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬১.১১ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে বাংলার ভোট পরিস্থিতির খবর নিলেন। ভবানীপুরের BJP প্রার্থী তাঁকে ফলতার EVM ট্যাম্পারিংয়ের চেষ্টার খবরটি জানিয়েছেন বলে খবর। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেছিলেন। ফলতার ঘটনা তাঁকে জানিয়েছি।'
ফলতায় কী ঘটেছে?
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে EVM কারচুপির অভিযোগ তুলেছে BJP। প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার দাবি, একাধিক বুথে তাঁর নামের সামনে থাকা বোতাম কাজই করছে না। সেগুলি টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু ভোটার নাকি ভোট দিতে পারেননি। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিকল্পিত ভাবেই ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা তৈরি হয়েছে এবং তাঁর নামের বোতাম EVM-এ জ্যাম করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
BJP-র আরও দাবি, ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন BJP নেতা অমিত মলব্য। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, ফলতার একাধিক বুথে BJP-র ভোট দেওয়ার অপশন টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। লেখেন, 'এই হল তথাকথিত ডায়মন্ড হারবার মডেল।' তিনি আরও দাবি করেন, 'এই একই কৌশল ব্যবহার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লোকসভা আসন জিতেছিলেন।'
কমিশন কী জানিয়েছে?
EVM-এর বটন ট্যাম্পারিংয়ের কোনও রকম অভিযোগ উঠলে তা সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। বুধবার সকালে এমনটাই জানালেন রাজ্যের মখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'বটন ট্যাপ করার কোনও অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খতিয়ে দেখা হবে, রিপোর্ট চাওয়া হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে।' ফলতায় রিগিংয়ের অভিযোগের ঘটনায় তিনি রিপোর্টও তলব করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বের মাঝে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটদানের খবর আসছে। প্রথম দফার মতোই বহু সংখ্যক জনতা ভোটদানের জন্য বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন। লম্বা লম্বা লাইনের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ছয়-সাত দশকে যা হয়নি, যা কল্পনাও করা যেত না, এবার সেটাই হচ্ছে। ভয়মুক্ত বাতাবরণে পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিচ্ছেন।'