
৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন হয়েছে বাংলায়। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে এবার BJP সরকার গড়তে চলেছে বাংলায়। ৯ মে শপথগ্রহণ করবেন বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তবে এ সবের মাঝেই একটা আজব জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, কী মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী?
বুধবার নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, 'ওঁর সম্পর্কে কথা বলার জন্য আমার কাছে আর কোনও বাক্য বা শব্দ নেই। আর আমি প্রয়োজনও মনে করছি না। আমাকে এখন পজিটিভ চিন্তা করতে হবে, বাংলাকে গড়তে হবে। মোদীজি যে গ্যারান্টি দিয়ে গিয়েছেন, সেই কাজ আমাদের সম্পন্ন করতে হবে। যখন ওদের নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন ছিল করেছি, এখন কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ ওরা আর প্রাসঙ্গিকই নয়।'
মঙ্গলবার বিকেলে নিজের কালীঘাটের বাসভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৌতুহল ছিল, তিনি কখন লোকভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন। এ নিয়ে প্রশ্নও করা হয় তাঁকে। জবাবে মমতা বলেন, 'কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?'
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা না দেন, তাতে রাজ্যে নয়া সরকার গঠনে কোনও সমস্যা হবে না। যদিও অতীতে এমন কোনও ঘটনা, দেশের কোনও রাজ্যেই ঘটেনি। মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে তা নজিরবিহীন হয়ে থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে, বৃহস্পতিবার। আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দিন পর্যন্ত মমতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। ৭ তারিখ পেরোলেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়া মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্বল্পসময় রাজ্যপাল রাজ্যের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।
রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া একটা রেওয়াজ। ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ১৩ মে দুপুর আড়াইটে নাগাদ ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল এমকে নারায়ণনের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়েছিলেন।