
২০১৯ সালে এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, 'পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় হিংসা প্রায় সাধারণ ঘটনা। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন।'
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে গিয়ে ১৫ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আশ্বাস দিয়েছিলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হিংসামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ হবে।' ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর অনেকেই দাবি করছেন, তা বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছে কমিশন। অন্যবার হিংসা রুখতে বহু দফায় ভোট করানো হত। কিন্তু এবারের নির্বাচন মাত্র দুই দফায় ভোট করেও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বহু বছর পর দেখা গেল, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সময় বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন চলাকালীন একজনেরও মৃত্যুর খবরও সামনে আসেনি।
বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন
নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের বদলি। একে একে প্রায় পুরো প্রশাসনিক কাঠামোই বদলে দেওয়া হয়। শুধু মুখ্য সচিব বা ডিজিপি নয়, বহু থানার ওসি পর্যন্ত সরানো হয়। এমনকি ভবানীপুরে ভোটের ঠিক আগেও থানার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়।
পুরো প্রচারপর্ব জুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন। প্রায় প্রতিটি সভাতেই তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর হাতে কোনও ক্ষমতা নেই, এমনকী রাজ্যের পুলিশও তাঁর কথা শুনছে না।
পরিসংখ্যান কী বলছে
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে নির্বাচনী হিংসা সবচেয়ে বেশি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। ধীরে ধীরে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, ভোট মানেই শক্তিপ্রদর্শন। তবে এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।
২০২৬ বনাম ২০২১
এবারের দুই দফার ভোট শেষ হলেও নির্বাচন কমিশন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ৪ মে ফল ঘোষণার পরও ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।