
হ্যাঁ, আমি জিতে গেছি...জিতে গেছি। এরপর উচ্ছ্বাস মেশানো হাসি শোনা গেল ফোনের ওপার থেকে। ক'দিন আগেও বাড়ি বাড়ি মাসন মাজা, কাপড় কাচা, ঘর ঝাঁট দেওয়ার কাজ করতেন। সেই কলিতা মাজিই এখন বিধায়ক। আউসগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জিতলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ লোহার। এবং সিপিআইএম-এর চঞ্চল কুমার মাঝি। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন পেশায় পরিচারিকা কলিতাই।
পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। আউশগ্রাম বিধানসভা তপসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। বিগত নির্বাচনে কলিতা মাজিকে প্রার্থী করে কার্যত চমক দিয়েছিল বিজেপি। গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি পেশায় পরিচারিকা। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।
কলিতা মাজিকে ২০২১ সালেও প্রার্থী করেছিল বিজেপি। সেবার ওই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। হারে ব্যবধান ছিল ১১ হাজার ৮১৫ ভোট। জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কলিতা। কিন্তু এবারে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১০৭৬৯২। তৃণমূলের শ্যামাপ্রসাদ লোহারকে ১২৫৩৫ ভোটে হারিয়েছেন।
এবার তো আপনি বিধায়ক, পরিচারিকার কাজ করতে পারবেন? উত্তরে কলিতা বললেন, 'ওইসব নিয়ে এখনই ভাবছি না। পরে সিদ্ধান্ত নেব। তখনই আপনাদের জানাব।' বোঝা যাচ্ছিল তিনি বহু মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যে রয়েছেন। কোথাও বাজনা বাজছে। বিজয় উৎসব শুরু হয়েছে তাঁর জয়ে। যাতে অংশ নিয়েছেন কলিতাও।