
বোলপুর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার একটি মহকুমাস্তরের পৌর শহর। এই কেন্দ্রটি বোলপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। সীমানা নির্ধারণ কমিশনের ২০১০ সালের নির্দেশ অনুসারে, বোলপুর নির্বাচনী এলাকাটি বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের সমগ্র বোলপুর পৌরসভা, ইলামবাজার সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লক এবং রায়পুর সুপুর, রূপপুর এবং সাত্তোর গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৮তম জনবহুল শহর এবং বীরভূমের বৃহত্তম শহর বোলপুর ১৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে একটি ছোট গ্রাম ছিল। এর ইতিহাস মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যিনি ১৮৬৩ সালে এই এলাকার শান্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানে ধর্মীয় ধ্যানের জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র, সাহিত্যে ভারতের প্...
বোলপুর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার একটি মহকুমাস্তরের পৌর শহর। এই কেন্দ্রটি বোলপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। সীমানা নির্ধারণ কমিশনের ২০১০ সালের নির্দেশ অনুসারে, বোলপুর নির্বাচনী এলাকাটি বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের সমগ্র বোলপুর পৌরসভা, ইলামবাজার সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লক এবং রায়পুর সুপুর, রূপপুর এবং সাত্তোর গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৮তম জনবহুল শহর এবং বীরভূমের বৃহত্তম শহর বোলপুর ১৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে একটি ছোট গ্রাম ছিল। এর ইতিহাস মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যিনি ১৮৬৩ সালে এই এলাকার শান্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানে ধর্মীয় ধ্যানের জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র, সাহিত্যে ভারতের প্রথম নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিল্প, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শান্তিনিকেতন এখন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত।
বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশ নিয়েছিল। ১৯৫১ এবং ১৯৫৭ সালের প্রথম দুটি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে এই কেন্দ্র থেকে, পরে ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে নির্দল প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এরপর বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি) প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়, এই আসন থেকে আটবার জয়লাভ করে। ১৯৬২ সালে তাদের প্রথম জয় আসে এবং ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা সাতটি ভোটে জয়লাভ করে আরএসপি, যার মধ্যে তপন হোরের চারবারের জয়লাভও রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের চন্দ্রনাথ সিনহা ২০১১ সালে এই ধারা ভেঙে ১৬,৬২৭ ভোটে তপন হোরকে পরাজিত করেন। তৃণমূল ২০১৬ সালেও আসনটি ধরে রাখে, এবার ৫০,০২৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পায় ঘাসফুল শিবির। ২০২১ সালে, বিজেপির অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এই আসনে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। চন্দ্রনাথ সিনহা আবারও জয়লাভ করেছিলেন, যদিও তাঁর জয়ের ব্যবধান ২২,২৮০ ভোটে নেমে এসেছিল। এইসময়ে আরএসপির ভোটের ভাগ কমে মাত্র ৪.৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়, যেখানে বিজেপির ভোট ছিল ৪০.৯০ শতাংশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ছিল ৫০.৫৮ শতাংশ।
লোকসভা নির্বাচনের সময় বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে একই রকম প্রবণতা দেখা যায়। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে এগিয়ে থাকে এবং তারপর থেকে তারা নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। ২০১৯ সালে বিজেপি বামফ্রন্টকে পেছনে ফেলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০১৪ সালে, তৃণমূল সিপিআই(এম)-কে ৩৩,৯৭৪ ভোটে পরাজিত করে। ২০১৯ সালে, বিজেপির থেকে তৃণমূল ১৫,৬১২ ভোট বেশি পায়, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪৮,৩৪৭ ভোটে দাঁড়ায়। বিজেপি এইকেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। বোলপুরে বামফ্রন্টের পতন লক্ষণীয়, ২০১৯ সালে এদের ভোটের ভাগ ছিল ৬.৪০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬.৯৫ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, কিন্তু এই জোট ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
২০২৪ সালে বোলপুরে ২,৮৫,১৪১ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন, ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২,৭৩,৮৯৬ জন এবং ২০১৯ সালে ২,৫৮,৯৫৬ জন। মুসলিম ভোটার রয়েছেন ৩০.৭০ শতাংশ, তফসিলি জাতি ও উপজাতির ভোটারদের সংখ্যা যথাক্রমে ২৪.১৩ শতাংশ এবং ৯.৫৮ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটারের সংখ্যা এই কেন্দ্রে ৬৯.৭২ শতাংশ এবং শহুরে ভোটার ৩০.২৮ শতাংশ। ভোটদানের হার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি, ২০১১ সালে হার ছিল ৮৭.৭০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে সংখ্যাটা ৮১.৮০ শতাংশে নেমে আসে। এর মধ্যে, ২০১৬ সালে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৮৪.৮৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৫.৬৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৪.২২ শতাংশ।
বোলপুর মূলত সমতল ভূমির উপর অবস্থিত, উর্বর পলিমাটি এবং মৃদু ঢালু এলাকা সহ। এই অঞ্চলটি কোপাই, বক্রেশ্বর এবং অজয় নদীর দ্বারা বেষ্টিত। ভূ-প্রকৃতি পশ্চিমের উচ্চভূমি থেকে দক্ষিণ ও পূর্বে সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। স্থানীয় অর্থনীতি কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প এবং শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্র দ্বারা পরিচালিত হয়। সোনাঝুরি হাট, স্থানীয় বাজার এবং উপজাতীয় কারুশিল্প জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা পালন করে। সাঁওতালদের মতো উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলি এখনও এই অঞ্চলের সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেক রীতিনীতি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
ব্যস্ত হাওড়া-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনের সঙ্গে, সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত। বোলপুর রেলওয়ে স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। রাজ্য হাইওওে বোলপুরকে কলকাতা (১৫৭ কিমি), সিউড়ি (৩৩ কিমি), বর্ধমান (৫২ কিমি), দুর্গাপুর (৭৫ কিমি), আসানসোল (১০৫ কিমি) এবং বহরমপুরের (৮৫কিমি) সঙ্গে সংযুক্ত করে। ঝাড়খণ্ডের শহরগুলিও কাছাকাছি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইথন (১১০ কিমি), ধানবাদ (১১৫ কিমি), দুমকা (১২০ কিমি), এবং দেওঘর (১৪৩ কিমি)।
গত ছয়টি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বোলপুর আসনে ফেভারিট তৃণমূল। বিজেপির সম্ভাবনা নির্ভর করছে ২০২১ সালের ৯.৭০ শতাংশ ভোটের ব্যবধান পূরণের উপর, যার জন্য হিন্দু ভোটকে একত্রিত করা, তৃণমূল বিরোধী একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তোলা এবং বামফ্রন্ট-কংগ্রেস তৃণমূলের কতটা ভোট কাটতে পারছে তারওপর।
Anirban ganguly
BJP
Tapan hore
RSP
Nota
NOTA
Siddhartha banerjee
PRDSEP
Jiten ray
BSP
Mihir kumar banerjee
RVNP
Sona murmu
BMUP
Samarjit barman
SUCI
Sk sirajul hoque
MPOI
Tapan hore
RSP
Dilip ghosh
BJP
Nota
NOTA
Mangal mardi
IND
Das suresh
BSP
Sekh matiur rahaman
MPOI
Samarjit barman
SUCI
Md saddakkas
JD(S)