
রাজ্যে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। কলকাতা ও চার জেলাকে সতর্ক করে দিল রাজ্য সরকার। সোমবার সন্ধেয় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ওই বৈঠকে কলকাতা-সহ ৫ জেলার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যসচিব উদ্বেগপ্রকাশ করেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। সেগুলি হল- কলকাতা,হাওড়া,উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং বীরভূম। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কোভিড বিধি কঠোরভাবে বলবৎ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখিত জেলাগুলিতে কঠোরভাবে কোভিডবিধি নিশ্চিত জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনে আরও বেশি করে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন চালু করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার উপরে জোর দিয়েছেন মুখ্যসচিব। ব্যবস্থা নেওয়া মানে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
এখনও অনেকের টিকা নেওয়া হয়নি। টিকা নিয়ে অনীহা কারণ বলে মনে করছে প্রশাসন। টিকাকরণে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। রাজ্যে বহু মানুষ এখনও দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাননি। সে কথা উল্লেখ করে দ্রুত জোড়া টিকা সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি থেকে পর্যাপ্ত সেফ হোম তৈরির জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টেলিমেডিসিন পরিষেবা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলেছে রাজ্য সরকার। করোনার স্ফীতিতে সংক্রামিত স্বাস্থ্য কর্মীদের শারীরিক অসুবিধা না থাকলে ৭ দিনের নিভৃতবাস শেষে কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।
সোমবার রাজ্যের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। তবে পরীক্ষাও এ দিন অনেক কম হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে সংক্রমিতের সংখ্যা ১৯,২৮৬। ৫ হাজার ৫৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন কলকাতায়। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংক্রামিত যথাক্রমে ৪ হাজার ২৯৭ জন ও ১ হাজার ২২৫ জন। হাওড়ায় আক্রান্ত ১৬২৫। ৯৩৪ জন সংক্রমিত হুগলিতে। বীরভূমে ৬৫৪ জন সংক্রামিত হয়েছেন।